পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার নেতৃত্বের বদল নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন দলের বর্ষীয়ান নেতা এবং কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ তারক সিং। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক সঙ্গী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতা সম্প্রতি এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে বর্তমান নেতৃত্বের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন এবং জানিয়েছেন, দলের বর্তমান ব্যর্থ নেতৃত্বের পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্পর্কের সমীকরণ
তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই তারক সিং দলটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কাউন্সিলর এবং ১৬ বছর ধরে মেয়র পারিষদের দায়িত্ব সামলানো এই নেতা বর্তমানে দলের অন্দরে এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের চাঞ্চল্য তৈরি করেছে, কারণ তিনি কেবল দলের সাধারণ কর্মী নন, বরং তৃণমূলের কাঠামোর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও দলের বিভিন্ন পদে আসীন, যা এই বিদ্রোহের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নেতৃত্বের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন
তারক সিং অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনের ফলাফলের পর নৈতিক দায়ভার গ্রহণ না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ার আঁকড়ে বসে আছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ থাকে, তবে কেন দল সেই ফলাফল মেনে নিয়ে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিল? তাঁর মতে, জনতাকে বিভ্রান্ত করার এই প্রবণতা দলের নেত্রীর পক্ষে শোভনীয় নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যে নেতৃত্ব কর্মীদের পাশে থাকতে ব্যর্থ, তাদের আর দলের নেতৃত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারক সিংয়ের এই মন্তব্য তৃণমূলের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের প্রতি সাধারণ কর্মীদের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা এই মন্তব্যে স্পষ্ট। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি না নিলেও, তিনি যেভাবে বর্তমান নেতৃত্বের তৈরির প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছেন, তা দলের অন্দরে বড় ধরনের বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারক সিংয়ের এই ‘ভয় পাই না’ মনোভাব তৃণমূলের শীর্ষ মহলে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।
সামনের দিনগুলোতে কী ঘটতে পারে
তৃণমূলের অন্দরে এই বিদ্রোহ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়। দলের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, অথবা এর ফলে দলের ভেতরে কোনো বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। এছাড়াও, এই ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বজায় রাখার কৌশল কী হবে, তা আগামী কয়েক সপ্তাহে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।