পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাটমানি, তোলাবাজি এবং নিয়োগ দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিকে চিহ্নিত করেছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি স্বীকার করেছেন যে তৃণমূলের এই বিপর্যয় যে এত ভয়াবহ রূপ নেবে, তা তিনি আগে থেকে বুঝতে পারেননি।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আসন লুঠ’ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, সেখানে সৌগত রায় পরাজয়ের কারণ হিসেবে দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকেই দায়ী করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক গভীর অসন্তোষ জমা হয়েছিল।
সৌগত রায়ের মতে, তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে তোলাবাজি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেও, দল সেই অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দেয়নি। নীতিগত প্রশ্ন এবং তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল যে তা ভোটের মাধ্যমে ‘বিস্ফোরণ’ ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোনও কাজ করতে গেছে, টাকা দিতে হয়েছে, কাজ করতে গিয়েছে কাজটা হয়নি, এই নিয়ে ক্ষোভ ছিল।’
সাংসদ আরও বলেন যে, ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের ঘটনা এবং কামদুনি গণধর্ষণের পর বিচার না পাওয়া, এই দুটি বিষয়ও সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। এই সমস্ত ক্ষোভ একত্রিত হয়ে ভোটের সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক গণপ্রতিরোধে পরিণত হয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ‘গেরুয়া সুনামি’ বয়ে গেছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে কেন এই পতন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। এই পরাজয়ের পর দলের অনেক নেতাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।
ইতিমধ্যেই একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ের এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি দলের পরাজয়ের জন্য সরাসরি দলকেই দায়ী করেছেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসন লুঠ’ তত্ত্বের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এই পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলের অন্দরে যেমন ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে, তেমনই নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। সৌগত রায়ের মতো নেতাদের এই ধরনের মন্তব্য দলের মধ্যে আত্মসমীক্ষার প্রয়োজনীয়তাকেই তুলে ধরেছে।
আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস কীভাবে এই সংকট কাটিয়ে উঠবে, তা দেখার বিষয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ধরনের অভিযোগগুলিকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার উপর নির্ভর করবে দলের ভবিষ্যৎ।