Headlines

ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যু: প্রাক্তন বিচারক শাশুড়ি গ্রেফতার সিবিআইয়ের জালে

ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যু: প্রাক্তন বিচারক শাশুড়ি গ্রেফতার সিবিআইয়ের জালে Photo by RDNE Stock project on Pexels

ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যু: প্রাক্তন বিচারক শাশুড়ি গ্রেফতার সিবিআইয়ের জালে

৩৩ বছর বয়সি মডেল ত্বিষা শর্মার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বড়সড় মোড় নিল তদন্ত। পণের জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রাক্তন বিচারক তথা ত্বিষার শাশুড়ি গিরিবালা সিংহকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ত্বিষার নিথর দেহ, যার পর থেকেই তদন্তের কেন্দ্রে ছিল তাঁর পরিবার।

তদন্তের প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই

ঘটনার সূত্রপাত ১২ মে, যখন ভোপালে ত্বিষা শর্মার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে পণের দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন ত্বিষার পরিবার। প্রাথমিক পর্যায়ে গিরিবালা সিংহ দায়রা আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করলেও, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট পরবর্তীকালে সেই জামিন খারিজ করে দেয়। এরপরই বৃহস্পতিবার সকালে সিবিআইয়ের একটি তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল গিরিবালার বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে গ্রেফতার করে।

তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য

সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যে, ত্বিষার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল, যার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিশেষ করে ত্বিষার হাতের কবজি ও কনুইয়ে পাওয়া আঘাতের চিহ্নগুলো নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, ত্বিষা অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতো। তাঁকে গর্ভপাতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

ত্বিষার আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেছেন যে, গিরিবালা সিংহ একজন প্রাক্তন বিচারক হওয়ার সুবাদে নিজের প্রভাব খাটিয়ে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে থাকাকালীন তিনি একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে মৃতাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ। এছাড়া ডিজিটাল ম্যাপিং ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য সিবিআই এখন ভোপালে একটি বিশেষ ক্যাম্প স্থাপনের তোড়জোড় করছে।

আইনি ধারাসমূহ ও ভবিষ্যৎ

গিরিবালা সিংহের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮০ (২), ৮৫ এবং ৩ (৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও ১৯৬১ সালের পণ বিরোধী আইনের ৩ ও ৪ নম্বর ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও গিরিবালা ও তাঁর পরিবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আগামী দিনে সিবিআই এই মামলার চার্জশিট দাখিল করলে বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এখন সিবিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *