ত্রিপুরা সরকার কিংবদন্তী সঙ্গীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণ (আর.ডি. বর্মণ) এর স্মৃতি ও সৃষ্টিকে অমর করে রাখতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় একটি অত্যাধুনিক জাদুঘর নির্মিত হচ্ছে, যেখানে পঞ্চমতলের সুরস্রষ্টার দুর্লভ স্মৃতিচিহ্ন, গান, ছবি এবং বই সংরক্ষিত থাকবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম আর.ডি. বর্মণের সঙ্গীত প্রতিভার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং তাঁর সঙ্গীত জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারবে।
জাদুঘরের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য
বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক আর.ডি. বর্মণ, যিনি ‘পঞ্চম’ নামেও পরিচিত, ভারতীয় সঙ্গীত জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর সুর করা গানগুলি আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখে। তিনি কেবল একজন সুরকারই ছিলেন না, ছিলেন একজন প্রতিভাবান সঙ্গীতশিল্পীও। তাঁর সঙ্গীত জীবনের দীর্ঘ যাত্রাপথে তিনি অজস্র কালজয়ী গান সৃষ্টি করেছেন।
ত্রিপুরা সরকারের এই জাদুঘর নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো আর.ডি. বর্মণের সঙ্গীত ঐতিহ্যকে রক্ষা করা এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই জাদুঘরে তাঁর ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র, স্বরলিপি, হাতে লেখা গানের খাতা, তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময়ের দুর্লভ ছবি, অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং এবং তাঁর প্রিয় বইগুলি স্থান পাবে।
সংগ্রহশালা ও প্রদর্শনী
জাদুঘরটিতে বিশেষভাবে আর.ডি. বর্মণের সঙ্গীত জীবনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হবে। তাঁর প্রাথমিক জীবন, সঙ্গীত জগতে পদার্পণ, এবং তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য গানগুলির সৃষ্টির পেছনের গল্পগুলি এখানে প্রদর্শিত হবে। দর্শকরা তাঁর সুর করা চলচ্চিত্রের গানগুলির পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অনেক অজানা তথ্যও জানতে পারবেন।
বিশেষভাবে, এখানে তাঁর কম্পোজ করা গানগুলির দুর্লভ রেকর্ডিং, তাঁর নিজের গাওয়া কিছু গান এবং তাঁর সঙ্গীত পরিচালনায় তৈরি হওয়া অন্য শিল্পীদের গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলি শোনার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও, তাঁর ব্যবহৃত কিছু বাদ্যযন্ত্র, যেমন – পিয়ানো, কি-বোর্ড, গিটার ইত্যাদিও প্রদর্শিত হবে, যা তাঁর সঙ্গীত সৃষ্টির সঙ্গে দর্শকদের একাত্ম হতে সাহায্য করবে।
জাদুঘরের দেওয়ালে আর.ডি. বর্মণের জীবনের নানা মুহূর্তের ছবি থাকবে, যা তাঁর বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে তাঁর তারকা হয়ে ওঠা পর্যন্ত যাত্রাপথের সাক্ষী। তাঁর পরিবারের সঙ্গে ছবি, সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডার মুহূর্ত, স্টুডিওতে গান তৈরির দৃশ্য – এই সবই দর্শকদের এক নস্টালজিক আবহে নিয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রভাব
সংগীত বিশেষজ্ঞ এবং আর.ডি. বর্মণের অনুরাগী মহলে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত স্বাগত জানানো হয়েছে। সঙ্গীত সমালোচক অমল রায়চৌধুরী বলেন,