ত্রিপুরা সরকার রাজ্যের আগরতলায় কিংবদন্তী সঙ্গীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণ, যিনি ‘পঞ্চম’ নামে পরিচিত, তাঁর স্মরণে একটি বিশেষ সংগ্রহশালা স্থাপন করতে চলেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে পঞ্চমের অসামান্য সঙ্গীত কর্ম এবং জীবনীর এক সমৃদ্ধ ভান্ডার তুলে ধরা হবে। এই সংগ্রহশালায় তাঁর বিরল সঙ্গীত সংগ্রহ, দুর্লভ আলোকচিত্র, অডিও রেকর্ডিং এবং তাঁর প্রিয় বইগুলি স্থান পাবে, যা রাজ্যের সঙ্গীত ও সংস্কৃতি জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সংগ্রহশালার প্রেক্ষাপট
রাহুল দেব বর্মণ ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তাঁর সুর করা অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মন জয় করে রেখেছে। বাংলা, হিন্দি সহ বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর সঙ্গীত শুধু সুরের মাধুর্যেই নয়, বরং নতুনত্বের জন্যও পরিচিত।
ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে আর. ডি. বর্মণের এক গভীর আত্মিক যোগ ছিল। তাঁর পরিবার এবং তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এই রাজ্যের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই যোগসূত্রকে সম্মান জানাতে এবং তাঁর সঙ্গীতকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এই সংগ্রহশালা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংগ্রহশালার বিস্তারিত
এই সংগ্রহশালাটি আগরতলার একটি বিশেষ স্থানে তৈরি করা হবে, যেখানে পঞ্চমের জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হবে। এখানে তাঁর ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র, তাঁর হাতে লেখা গানের স্বরলিপি, তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরি এবং তাঁর সঙ্গীত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলির আলোকচিত্র স্থান পাবে।
সংগ্রহশালার একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে তাঁর অডিও-ভিডিও সংগ্রহ। এর মধ্যে তাঁর সুর করা জনপ্রিয় গানগুলির মূল রেকর্ডিং, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর গাওয়া গান এবং তাঁর উপর নির্মিত তথ্যচিত্রও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, তাঁর প্রিয় সুরকারদের ডিস্কোগ্রাফি এবং সঙ্গীত বিষয়ক বইগুলিও এখানে পাওয়া যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ কেবল কিংবদন্তীদের স্মরণেই সহায়ক নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের কাছে সঙ্গীত ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অমূল্য শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
প্রখ্যাত সঙ্গীত সমালোচক অমল চট্টোপাধ্যায় বলেন,