আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের ৯টি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় ও বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মধ্য পাকিস্তান থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে এই প্রতিকূল আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট
গত কয়েক দিন ধরেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মেঘলা এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে ভিজছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ হয়ে উত্তর ছত্তিশগড় এবং অভ্যন্তরীণ ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায় আরও একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা সক্রিয় থাকায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি রয়েছে।
প্রভাবিত এলাকা ও সতর্কবার্তা
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কাল দক্ষিণবঙ্গের দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় ঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এই জেলাগুলির বাসিন্দাদের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যার অর্থ হলো আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সাধারণ জনজীবন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও প্রভাব
আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং পশ্চিমী বায়ুপ্রবাহের এই সংমিশ্রণই মূলত বর্তমান দুর্যোগের প্রধান কারণ। এর প্রভাবে বজ্রপাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, যা খোলা মাঠে থাকা মানুষ ও কৃষিকাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের কারণে গাছ উপড়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা নগর পরিকাঠামোর ওপর চাপের ইঙ্গিত দেয়।
জনজীবনে প্রভাব ও আগামীর সতর্কতা
এই ধরণের আবহাওয়া পরিস্থিতিতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে জলমগ্ন রাস্তা এবং উপড়ে পড়া গাছের কারণে যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। আগামী দিনে আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ঝড়ের সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্নচাপ অক্ষরেখার অবস্থান এবং এর গতিপ্রকৃতি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও স্পষ্ট হবে, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সতর্কবার্তা জারি করা হতে পারে।