Headlines

দক্ষিণবঙ্গে অব্যাহত দুর্যোগ: কালও ৯ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি আবহাওয়া দপ্তরের

দক্ষিণবঙ্গে অব্যাহত দুর্যোগ: কালও ৯ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি আবহাওয়া দপ্তরের Photo by Md Nadim Mahmud on Pexels

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী চব্বিশ ঘণ্টাতেও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে দক্ষিণবঙ্গের ৯টি জেলায় আগামীকালের জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ বা ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে মধ্য পাকিস্তানের ওপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। সেখান থেকে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর ছত্তিশগড় অতিক্রম করে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে আরও একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে, যা মূলত পশ্চিমী বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে তৈরি হয়েছে। এই জোড়া ফলার প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

প্রভাবিত হতে পারে যে জেলাগুলো

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল মূলত পশ্চিম ও উত্তরের জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ। এই জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

জনজীবনে প্রভাব ও সতর্কতা

ইতিমধ্যেই এই অকাল ঝড়ে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গাছ ভেঙে পড়ার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের এই সতর্কবার্তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এবং কৃষি কাজে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ গতিপথ

দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে ঝড়ের পরবর্তী পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। আগামী কয়েকদিন এই আবহাওয়া পরিস্থিতি কেমন থাকে এবং নিম্নচাপ অক্ষরেখার অবস্থানের পরিবর্তন হয় কি না, সেদিকেই নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। উপকূলীয় এলাকায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা বহাল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *