Headlines

দক্ষিণবঙ্গে ফের বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা: IMD-র কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি

দক্ষিণবঙ্গে ফের বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা: IMD-র কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি Photo by Akhil Gautam on Pexels

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) দক্ষিণবঙ্গের জন্য ফের কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করেছে, যা আজ রাত থেকেই শুরু হতে পারে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপর অবস্থানরত ঊর্ধ্ব বায়ু ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলিতে ৩০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন ধরে, বিশেষ করে রবি ও সোমবার, আরও তীব্র হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়ার প্রেক্ষাপট

গতকালের গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের উপর অবস্থানরত ঊর্ধ্ব বায়ু ঘূর্ণাবর্ত, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত, এই পরিস্থিতির মূল কারণ। এছাড়া দক্ষিণপূর্ব বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় ৩.১ থেকে ৫.৮ কিমি উচ্চতার মধ্যে আরেকটি ঊর্ধ্ব বায়ু ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এর সঙ্গে যুক্ত নিম্নচাপ অক্ষরেখাটি ৭.৬ কিমি উচ্চতায়, প্রায় ৮৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ বরাবর, ২০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশের উত্তরে বিস্তৃত রয়েছে। এই ধরনের বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা সাধারণত কালবৈশাখীর জন্ম দেয়, যা বাংলার প্রাক-বর্ষা ঋতুর একটি পরিচিত ঘটনা।

কালবৈশাখী মূলত স্থানীয় তাপমাত্রার বৃদ্ধি এবং আর্দ্রতার সংমিশ্রণে সৃষ্ট শক্তিশালী বজ্রঝড়। এটি সাধারণত দুপুরের পর বা সন্ধ্যার দিকে দেখা যায় এবং এর সঙ্গে তীব্র বাতাস, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের ঝড়ের তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনজীবন ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

বিস্তারিত পূর্বাভাস ও সতর্কতা

আইএমডি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব হতে পারে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিনের মতোই দুপুরের পর থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝড়ো বাতাস বইবে।

দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাসের সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ের সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

শনিবার ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব কিছুটা কমলেও রবিবার থেকে ফের তা বাড়বে। বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। রবি ও সোমবার এই দুদিন কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতে ফের ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব বাড়বে। সোমবার কলকাতায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা প্রবল বলে জানানো হয়েছে। সকাল থেকে আকাশ মেঘলা বা আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তবে দুপুরের পর থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সম্ভাব্য প্রভাব

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের একাধিক ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপ অক্ষরেখার উপস্থিতি বায়ুমণ্ডলকে অত্যন্ত অস্থির করে তোলে। এর ফলে মেঘ দ্রুত ঘনীভূত হয় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি ও তীব্র বাতাসের সৃষ্টি হয়। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে কৃষকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি পাকা ফসলের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে আম, লিচু ও অন্যান্য গ্রীষ্মকালীন ফলের চাষে এর প্রভাব পড়তে পারে।

শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে কলকাতায়, ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়া গাছ উপড়ে ফেলতে পারে, বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং কাঁচা বাড়ি বা অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে দিতে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও সতর্কতা

এই আবহাওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। ঝড় ও বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা, বিদ্যুতের খুঁটি ও তার থেকে দূরে থাকা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে দ্রুত বিদ্যুৎ দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখতে হবে।

সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্যোগ মোকাবিলা দলগুলিকে সক্রিয় রাখতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার দিকে নিবিড় নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ পূর্বাভাসে সামান্য পরিবর্তনও পরিস্থিতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আইএমডি নিয়মিত আপডেট প্রদান করবে এবং জনসাধারণের উচিত সেই তথ্য অনুসরণ করে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *