প্রচণ্ড দাবদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল দক্ষিণবঙ্গ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে নামল স্বস্তির বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতসহ এই বৃষ্টিপাত আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
আবহাওয়ার পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় অস্বস্তিকর গরম জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের প্রভাব ও ঝড়ের পূর্বাভাস
কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন অংশে বুধবার রাত থেকে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাত ও ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বৃষ্টিপাত সাময়িক হলেও তা তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই নামিয়ে আনবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন প্রাক-বর্ষার মরসুমে এই ধরনের আকস্মিক ঝড়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নজরদারি
আগামী কয়েকদিন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে নিয়মিত নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। কৃষিকাজের ক্ষেত্রে এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এলেও, ঝড়ের কারণে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের জন্য আগামী কয়েকদিন আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাপমাত্রাকে স্বাভাবিকের নিচে ধরে রাখবে।