কলকাতা, সোমবার, ২০শে মে ২০২৪: রাজনৈতিক সভা আয়োজনে বাধা দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগ তুলে ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ধর্নামঞ্চ সরিয়ে ‘Y’ চ্যানেলে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্নামঞ্চে পৌঁছে পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, আগামী দিনে লালবাজার ও নবান্ন ঘেরাও করা হবে।
সভার স্থান পরিবর্তনে জটিলতা
সোমবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সভা রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পুলিশ ‘আইন-শৃঙ্খলা’ পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে এবং অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে ওই স্থানে সভার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। অভিযোগ, বিকল্প হিসেবে ‘Y’ চ্যানেল বা তার সংলগ্ন এলাকায় সভার অনুমতি দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় তৃণমূল নেতৃত্ব ক্ষোভ প্রকাশ করে। তাদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে তৃণমূলের কর্মসূচি ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থও হন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে উপস্থিতি ও হুঁশিয়ারি
দুপুরের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্নামঞ্চে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে আটকাতে পারবে না। আমি বেঁচে থাকলে বিজেপি-কে সরাবই।’
পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এত বছর ধরে এখানে সভা করছি, কোনোদিন সমস্যা হয়নি। আজ হঠাৎ করে সমস্যা?’ তিনি আরও জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদে তারা আপাতত ‘Y’ চ্যানেলে ধর্না চালাবেন।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজ শুধু শুরু। আগামী দিনে লালবাজার এবং নবান্ন ঘেরাও করা হবে।’ পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন তিনি।
তৃণমূলের অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে বিজেপি-র নির্দেশে পুলিশ তৃণমূলের কর্মসূচি পালনে বাধা দিচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দল নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য পুলিশকে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব এবং এই বিষয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
নেতাকর্মীদের উপস্থিতি
মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই ধর্নামঞ্চে উপস্থিত হতে শুরু করেন তৃণমূলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সহ বহু নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশের এই পদক্ষেপ এবং মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি আগামী দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি পালনে এই ধরনের বাধা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা হুঁশিয়ারি আরও বাড়বে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে লালবাজার ও নবান্ন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি, কলকাতা পুলিশের উপর যে চাপ সৃষ্টি করবে, তা আগামী দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।