Headlines

নিয়োগ দুর্নীতি ও বেআইনি নির্মাণ মামলা: জেল হেফাজতে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাস

নিয়োগ দুর্নীতি ও বেআইনি নির্মাণ মামলা: জেল হেফাজতে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাস Photo by RDNE Stock project on Pexels

নিয়োগ দুর্নীতি ও শহরে বেআইনি নির্মাণে মদত দেওয়ার অভিযোগে ধৃত কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাসকে ১ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর বিচারক এই নির্দেশ দেন, যেখানে ধৃত প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক নিজেকে ‘গ্রেড ওয়ান’ বা প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি

নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে ইডি এবং সিবিআইয়ের নজরে পড়েন শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাস। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, বেআইনি নির্মাণ এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের সাহায্য করতেন তিনি। এই ঘটনার তদন্তে নেমে শান্তনুর কান্দির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং তার পুকুরে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তদন্তের মোড় ও ইডির নজরদারি

তদন্তকারী সংস্থা ইডি এখন শান্তনুর ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনের হদিশ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, এই মোবাইলগুলোতে এমন অনেক তথ্য রয়েছে যা তদন্তের গতিপথ বদলে দিতে পারে। এছাড়া, শহরে বেআইনি নির্মাণে মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ওসিদের একটি তালিকা তৈরি করছে ইডি, যা এই মামলার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বন্দির মর্যাদার দাবি ও আইনি লড়াই

আদালতে শান্তনু সিন্‌হা বিশ্বাসের আইনজীবী দাবি করেছেন যে, তার মক্কেলকে যেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে না রেখে প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে রাখা হয়। পাশাপাশি, জেলে থাকাকালীন তার যথাযথ চিকিৎসারও আর্জি জানানো হয়েছে। যদিও আদালত ১ জুন পর্যন্ত তাকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে, তবে তার এই বিশেষ মর্যাদার আবেদন নিয়ে আইনি মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

তদন্তের ভবিষ্যৎ ও প্রভাব

এই মামলাটি কেবল একজন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে নয়, বরং শহরের প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতি কতটা শিকড় গেড়েছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। ইডি সূত্রে খবর, শান্তনুর বাড়ির চারপাশ সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে যাতে কোনো প্রমাণ নষ্ট না হয়। আগামী দিনে এই তদন্তের সূত্র ধরে আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন শান্তনুর আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার ওপর জোর দিচ্ছে। আগামী ১ জুন আদালতের পরবর্তী শুনানিতে ইডি কী নতুন তথ্য পেশ করে এবং শান্তনুর আবেদনের বিষয়ে বিচারক কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *