পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন নির্দেশিকার পরপরই মালদা জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। শনিবার ইংরেজবাজারের এই কেন্দ্রে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিন মহিলা এবং ছয়জন নাবালক ও নাবালিকা রয়েছে। গাজোল থেকে তাদের আটক করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা রাজ্যে অনুপ্রবেশ বিরোধী অভিযানের তীব্রতাকে স্পষ্ট করে তুলছে।
প্রেক্ষাপট ও সরকারি নির্দেশিকা
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দফতর এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স ব্রাঞ্চের পাঠানো এক নির্দেশিকায় রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের অবিলম্বে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২ মে ২০২৫-এর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের চিঠির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো অবৈধভাবে ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নাগরিকদের চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।
অনুপ্রবেশ রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অতীতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এই কৌশলের মূল স্তম্ভ হলো ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’, যার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে রাজ্য তথা দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে। লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পর্যন্ত সকলেই রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা বিতর্ক
এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ ছড়িয়েছে। উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করে জানান, জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অবৈধ বিদেশিদের চিহ্নিত করা একান্ত প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘকাল ধরে রাজ্যকে সন্ত্রাসবাদ এবং জেহাদি কার্যকলাপের করিডোর হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা এখন বন্ধ করার সময় এসেছে।
প্রক্রিয়াগত প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পথ
হোল্ডিং সেন্টার তৈরির এই সিদ্ধান্ত অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতদিন পর্যন্ত ধৃত ব্যক্তিদের রাখার জন্য যথাযথ পরিকাঠামোর অভাব ছিল, যা এখন কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় পূরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজর থাকবে, বিশেষ করে যেহেতু আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নাবালক ও মহিলারা রয়েছেন।
সামনের দিনগুলোতে রাজ্যের অন্যান্য জেলায় হোল্ডিং সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হবে কি না এবং কত দ্রুত এই ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তা এখন দেখার বিষয়। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে এই অভিযান কীভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই এখন পর্যবেক্ষকদের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু।