সোমবার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হতে চলেছে। রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য নির্বাচন কমিশন ৭৭টি গণনাকেন্দ্র প্রস্তুত করেছে। ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগে ফলতা কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল হওয়ায় সেখানে গণনা হচ্ছে না। এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি গণনাকেন্দ্রকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারির পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারি চালু রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে অস্থায়ী বাঙ্কার নির্মাণ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৭৭ জন পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ১৬৫ জন কাউন্টিং অবজার্ভারও মোতায়েন করা হয়েছে।
গণনা প্রক্রিয়ার বিন্যাস
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সকাল ৮টায় পোস্টাল ব্যালট গণনার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি শুরু হবে। এরপর সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ইভিএম (EVM) মেশিনের ভোট গণনা শুরু হবে। কোনো বিধানসভা কেন্দ্রে ১৫ রাউন্ড গণনা হলে, ১৩ রাউন্ড শেষ হওয়ার আগেই পোস্টাল ব্যালটের গণনা সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গণনাকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে কিউআর কোড (QR code) ভিত্তিক পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে এবং মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক বিন্যাস
সবচেয়ে বেশি গণনাকেন্দ্র রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়, যেখানে ৩৩টি আসনের জন্য ৮টি কেন্দ্র ব্যবহার করা হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩০টি আসনের জন্য ৬টি এবং কলকাতা জেলায় ১১টি আসনের জন্য ৫টি গণনাকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল
গণনা প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনো কাউন্টিং এজেন্ট রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া কেন্দ্র ত্যাগ করতে পারবেন না। এছাড়া পুলিশের অনুমতি ব্যতীত বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ নির্বাচনী ফলাফল জানতে পারবেন নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট এবং ইসিআই (ECI) অ্যাপের মাধ্যমে। আগামী দিনে এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনে এবং কমিশন কতটা দক্ষতার সাথে এই জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।