Headlines

পাপীদের অফিসে হাত দেওয়ার দরকার নেই: রাজ্যে শান্তি ফেরাতে কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর

পাপীদের অফিসে হাত দেওয়ার দরকার নেই: রাজ্যে শান্তি ফেরাতে কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর Photo by Ankit Rainloure on Pexels

বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বুধবার প্রথমবারের মতো কলকাতার সিইও দফতরে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেন যে, ‘পাপীদের অফিসে হাত দেওয়ার দরকার নেই’। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি, আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিজেপির অবস্থান

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয়লাভের পর রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বিজেপি নেতৃত্ব অত্যন্ত তৎপর। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে রাজ্যে ‘মহাজঙ্গলরাজ’ তৈরি হয়েছিল, যা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতেই বিজেপি কাজ করছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপিকে কোনোভাবেই তুলনা করা চলে না, কারণ তাদের লক্ষ্য শান্তি ও উন্নয়ন।

আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রয়োগ

শুভেন্দু অধিকারী আরও যোগ করেন যে, আগামী দিনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী প্রতিটি মামলা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন জেলা থেকে ৫০-৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সিবিআই ১৬১টি এফআইআর দায়ের করেছে। তার মতে, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজবিরোধীদের দমন করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারে।

নন্দীগ্রাম ও সন্দেশখালির প্রেক্ষাপট

সন্দেশখালির সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শেখ শাহজাহানের ভয়ে মানুষ গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। নন্দীগ্রামের জনসমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নন্দীগ্রামের মানুষ তাকে বারবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত করে যে সম্মান দিয়েছেন, তা তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। এই জনাদেশকে তিনি রাজ্যের পরিবর্তনের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

ভবিষ্যতের পথচলা

নির্বাচন পরবর্তী এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই বার্তা মূলত দলীয় কর্মীদের সংযত রাখার একটি কৌশল। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আগামী দিনে বিজেপির শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, তার একটি রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এখন দেখার বিষয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারে এবং রাজ্য প্রশাসন এর বিপরীতে কী ভূমিকা নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *