Headlines

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু Photo by FUTURE KIIID on Pexels

রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার দীর্ঘ সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এই গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় বড়সড় আলোড়ন তৈরি করেছে।

তদন্তের পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পুরসভায় বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। সিবিআই-এর চার্জশিট অনুযায়ী, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় সবচেয়ে বেশি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ২০১৪ সালের পর থেকে প্রায় ৩২৯ জনের নিয়োগ টাকার বিনিময়ে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে করোনা অতিমারির সময়কালে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ২৯ জনকে বেআইনিভাবে নিয়োগের ঘটনাটি তদন্তকারীদের নজরে আসে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি

সুজিত বসু দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকার সময় এই নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলি সম্পন্ন হয়েছিল বলে অভিযোগ। গত ১০ অক্টোবর ইডি আধিকারিকরা লেকটাউনে সুজিত বসুর রেস্তোরাঁ, সল্টলেকের অফিস এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালান। তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকেও ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা। ভোটের আগে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও সুজিত বসু নানা কারণে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে ১ মে হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি প্রথমবার হাজিরা দেন, তবে সোমবারের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

রাজনৈতিক প্রভাব

এই গ্রেফতারির সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই প্রাক্তন মন্ত্রীর এই গ্রেফতারি তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। একই মামলায় মধ্যমগ্রামের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষের বারবার হাজিরা এড়িয়ে যাওয়াও তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইডি সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রাক্তন মন্ত্রী বহু প্রশ্নের সদুত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন, যা তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেফতার করার পথ প্রশস্ত করে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর এখন দেখার বিষয়, ইডি পরবর্তী ধাপে কাদের তলব করে এবং তদন্তের জালে আর কোন রাঘববোয়ালরা উঠে আসেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই এবং ইডির সমান্তরাল অভিযান রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে আরও বড় কোনো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। আগামী দিনে চার্জশিটে নতুন কোনো নাম যুক্ত হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সাধারণ মানুষ ও পর্যবেক্ষকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *