Headlines

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু Photo by Avro Dutta on Pexels

পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় পদক্ষেপ ইডির

পশ্চিমবঙ্গের পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গ্রেফতার করল রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে। প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের জেরার মুখে পড়ে বিভ্রান্তিকর উত্তর দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়। আজ রাতেই তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং আগামীকাল তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।

দুর্নীতির প্রেক্ষাপট ও সিবিআইয়ের পর্যবেক্ষণ

রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। এর আগে সিবিআই তাদের চার্জশিটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিল যে, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বেআইনি নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে। এই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন সুজিত বসুর ভূমিকা নিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহের তালিকায় ছিল। চার্জশিটের ১১ নম্বর পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের পর শুধুমাত্র দক্ষিণ দমদম পুরসভাতেই ৩২৯ জনের নিয়োগ হয়েছে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে।

তদন্তের মূল দিক ও অভিযোগের প্রকৃতি

তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, করোনা মহামারীর মতো সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি নিয়োগের প্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল। ইডির তথ্য অনুযায়ী, সুজিত বসু ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর সুপারিশে প্রায় ১৫০ জনের চাকরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগের বিনিময়ে শুধুমাত্র নগদ টাকা নয়, বরং জমির মালিকানা হস্তান্তরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পরিবারের একাধিক সদস্যকে চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জমি লিখে নেওয়া হয়েছে।

তদন্তের বিস্তার ও পরিবারের সংশ্লিষ্টতা

গত বছরের অক্টোবর মাস থেকেই এই মামলার তদন্তে গতি বাড়ায় ইডি। লেকটাউন এবং সল্টলেকে সুজিত বসুর অফিস, বাড়ি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত রেস্তোরাঁ ও লাউঞ্জ বারে তল্লাশি চালানো হয়। শুধু প্রাক্তন মন্ত্রী নন, তাঁর স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং জামাইকেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সোমবার সকালে সুজিত বসুর সঙ্গে তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু ইডি দফতরে হাজিরা দেন, যার পরেই দীর্ঘ জেরার শেষে এই গ্রেফতারি সম্পন্ন হয়।

শিল্প ও রাজনীতির ওপর প্রভাব

এই গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেমন পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এই তদন্তকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। আগামী দিনে এই মামলায় আরও কারা জড়িয়ে পড়েন এবং আদালতে ইডি কী তথ্য পেশ করে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *