পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে ম্যারাথন জেরা
পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রায় ৯ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে নিজের ছেলে ও আইনজীবীদের নিয়ে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যা নাগাদ তিনি সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে আসেন।
তদন্তের প্রেক্ষাপট
রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সুজিত বসুর লেকটাউনের বাড়ি, সল্টলেকের অফিস এবং তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ ও লাউঞ্জবারে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। এই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই সিবিআই দমকলমন্ত্রীকে তলব করেছিল। এর আগে তিনবার নোটিশ পাঠানো হলেও, ভোট প্রচারের কারণ দেখিয়ে সুজিত বসু হাজিরা এড়িয়েছিলেন।
তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু
সিবিআইয়ের চার্জশিটের ১১ নম্বর পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে। ২০১৪ সালের পর সেখানে টাকার বিনিময়ে ৩২৯ জনকে বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে মন্ত্রীর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা যাচাই করতেই তাঁকে এই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
রাজনৈতিক তরজা ও মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে দাঁড়িয়ে সুজিত বসু একে রাজনৈতিক হেনস্থা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, সিবিআইয়ের চার্জশিটে তাঁর নাম নেই এবং নির্বাচনের সময় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সুজিত বসু অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে তাঁকে অন্যভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই তলবকে বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আইনি ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যে নির্বাচনের আবহেও থমকে নেই, তা এই ম্যারাথন জেরা থেকেই স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, চার্জশিটে নাম না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ তদন্তের নতুন কোনো মোড় ইঙ্গিত করে কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে জল্পনা বাড়ছে।
ভবিষ্যতের দিকে নজর
এখন দেখার বিষয়, সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের পর মন্ত্রী বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো নতুন তথ্য বা প্রমাণ উঠে আসে কি না। তদন্তকারী সংস্থা আগামী দিনে এই মামলায় আরও কাউকে তলব করে কি না এবং চার্জশিটে নতুন কোনো নাম যুক্ত হয় কি না, সেটাই এখন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মূল আলোচনার বিষয়।