কলকাতা: বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ এবং তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী এবার গুরুতর অভিযোগের মুখে। ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার পরেও সিনেমায় অভিনয় না করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে চারু মার্কেট থানায় জামিন অযোগ্য ধারায় FIR দায়ের হয়েছে। এই ঘটনা অভিনেতা এবং রাজনীতিবিদ, উভয়ের পরিচিতি নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রতারণার অভিযোগের প্রেক্ষাপট
অভিযোগকারী তরুণ দাস, যিনি বালুরঘাটের মঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দা এবং একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক, তাঁর দাবি অনুযায়ী সোহম চক্রবর্তীকে একটি সিনেমার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী তিনি ছবিতে অভিনয় করেননি বা কাজ শুরু করেননি। এই আর্থিক প্রতারণার অভিযোগেই মামলা রুজু হয়েছে।
তবে, সোহম চক্রবর্তী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং পাল্টা অভিযোগ এনেছেন যে প্রযোজক তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। কিছুদিন আগেই এই অভিনেতার বিরুদ্ধে একই ধরনের একটি অভিযোগ উঠেছিল, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
বিতর্কের দীর্ঘ তালিকা
অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের জুন মাসে নিউটাউনের একটি রেস্তোরাঁয় শুটিং চলাকালীন রেস্তোরাঁর মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
সেই সময় সোহম দাবি করেছিলেন যে রেস্তোরাঁর মালিক তাঁর নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। যদিও সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে মারধর করতে দেখা গিয়েছিল, যা সেই ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তোলে। এই ধরনের ঘটনা তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
আইনি পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ
চারু মার্কেট থানায় দায়ের হওয়া FIR-এ সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে। তদন্তকারী সংস্থা এই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনা শুধু সোহম চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, বরং টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযোজকদের মধ্যে আস্থা এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী দিনের展望
এই নতুন অভিযোগের ফলে সোহম চক্রবর্তীর রাজনৈতিক এবং অভিনয় জীবনের উপর কী প্রভাব পড়বে, তা সময়ই বলবে। তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের সিদ্ধান্তই শেষ কথা বলবে। তবে, এই ঘটনা ইন্ডাস্ট্রিতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তাকেই আবার সামনে এনেছে।