কলকাতা: কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী সুমন কল্যাণপুর ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রবিবার মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আকাশবাণী থেকে তাঁর সঙ্গীত জীবনের শুরু এবং পরবর্তীতে তিনি পদ্মভূষণ সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হন। তাঁর কণ্ঠস্বরকে প্রায়শই কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকরের সাথে তুলনা করা হত। তাঁর প্রয়াণে সঙ্গীত জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সুমন কল্যাণপুরের সুরের সফর
পাঁচ থেকে সাতের দশকের মধ্যে সুমন কল্যাণপুর তাঁর অনবদ্য গায়কী দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন। ‘বাত এক রাত কি’, ‘দিল এক মন্দির’, ‘নূরজাহান’, ‘দিল হি তো হ্যায়’, ‘জাহান আরা’, ‘পাকিজ়া’-এর মতো বহু কালজয়ী চলচ্চিত্রের গানে তাঁর কণ্ঠস্বর অমর হয়ে আছে।
শুধু হিন্দি নয়, বাংলা গানেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ‘মনে করো আমি নেই বসন্ত এসে গেছে’ বা ‘আমার স্বপ্ন দেখার দু’টি নয়ন’-এর মতো গানগুলি আজও শ্রোতাদের মনে অমলিন। তাঁর এই সুরেলা কণ্ঠ চিরকালের জন্য থেমে গেল।
তুলনা ও স্বতন্ত্রতা
অনেকের মতে, সুমন কল্যাণপুরের কণ্ঠস্বর লতা মঙ্গেশকরের সাথে তুলনীয় ছিল। তবে তিনি কখনও কাউকে অনুকরণ করেননি। বরং নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করে গানের জগতে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন।
২০২৩ সালে তিনি পদ্মভূষণ সম্মান লাভ করেন। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি লতা মঙ্গেশকর পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন। হিন্দি ও বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান থেকে শুরু করে ধ্রুপদী ও রাগাশ্রয়ী সঙ্গীতেও তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল।
সম্মান ও স্বীকৃতি
ভারতীয় সঙ্গীত জগতে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য সুমন কল্যাণপুর বহু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর গান শুধু জনপ্রিয়তা লাভ করেনি, বরং সঙ্গীত সমালোচক ও শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সঙ্গীত জগতের প্রতিক্রিয়া
কিংবদন্তি শিল্পীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর সহকর্মী, সঙ্গীতশিল্পী এবং অনুরাগীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তাঁর সঙ্গীত জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
ভবিষ্যতের দিকে
সুমন কল্যাণপুরের প্রয়াণ ভারতীয় সঙ্গীত জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর গাওয়া গানগুলি আগামী প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর সুরের ধারা এবং সঙ্গীত জীবনের উত্তরাধিকার আগামী দিনেও সঙ্গীত জগতে প্রভাব বিস্তার করবে বলে আশা করা যায়।