Headlines

ফলতায় ভোটারদের ‘হুমকি’ ও বিক্ষোভ: গ্রেফতার ৩ তৃণমূল কর্মী

ফলতায় ভোটারদের 'হুমকি' ও বিক্ষোভ: গ্রেফতার ৩ তৃণমূল কর্মী Photo by Sandeep Kashyap on Pexels

ফলতায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় ভোটারদের হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগে তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় বঙ্গনগর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইসরাফিল চকদার এবং স্থানীয় নেতা সুজাউদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শনিবার এই গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, যা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দারা ও বিজেপি সমর্থকরা বড় ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের সময় ফলতায় জোরপূর্বক ভোট আদায় ও ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে। শনিবার যখন পার্শ্ববর্তী মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন চলছিল, তখন ফলতার বাসিন্দারা নতুন করে নিরাপত্তার দাবিতে সরব হন। ভোটারদের অভিযোগ, তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার পরেও তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মারধর করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ ও জনরোষ

ফলতার বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতারা সন্দেহের বশে অনেককে বাড়িছাড়া করার হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি শিশুদের প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয় মহিলারা এবং বিজেপি সমর্থকরা ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে জড়ো হয়ে পুনর্নির্বাচন ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের পরেও শাসক দলের ভয়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও অভিযোগ

বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল চকদারের নেতৃত্বে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের দাবি, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে বিজেপি ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা

এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার বিষয়টি ফের সামনে নিয়ে এসেছে। ভোটারদের মধ্যে ভীতি দূর করতে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তা এখন দেখার বিষয়। আগামী দিনে ফলতার মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হবে কি না, বা নির্বাচন কমিশন কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে কি না, সেই দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *