ফলতায় ভোট বাতিল: নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়া এই কেন্দ্রের ভোট প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর কমিশন শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যার ফলে আগামী ২১ মে ফলতায় পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানিয়ে নিজের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর সুরক্ষা নিয়ে হুঙ্কার দিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কমিশনের পদক্ষেপ
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালীন ইভিএম কারচুপির একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, বুথের ভেতরে নিয়মবহির্ভূত কার্যকলাপ চলছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তৎপর হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের সরেজমিন তদন্ত এবং রিপোর্ট পর্যালোচনার পরই কমিশন এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
কারচুপির প্রমাণ ও পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথের মধ্যে ৬৮টি বুথে অর্থাৎ মোট বুথের প্রায় ২১ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ধরা পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বহু বুথে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে প্রবেশ করছেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজই গায়েব হয়ে গেছে। ১৩টি বুথের ফুটেজে বড় ধরনের গরমিল পাওয়ার পর কমিশন পুরো কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের যোগসাজশে এই ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি দিল্লি থেকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী পাঠানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
ফলতায় পুনরায় ভোট হওয়ার কারণে রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২৯২টির ফলাফল ৪ মে প্রকাশিত হলেও, ফলতার ভাগ্য নির্ধারিত হবে ২৪ মে। এই ঘটনা রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে কমিশনের কঠোর অবস্থানের নতুন নজির স্থাপন করল। আগামী দিনগুলিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পুনর্নির্বাচন ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।