পাহাড়ের সুরক্ষায় তৎপর প্রশাসন
সামনে বর্ষা নামার আগেই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাকে দুর্যোগমুক্ত রাখতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সম্ভাব্য ভূমিধস ও অতিবৃষ্টির পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (QRT) দ্রুত মোতায়েন করতে হবে। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পাহাড় পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা যায়।
গত বছরের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক গাফিলতির প্রসঙ্গ
গত বছরের অক্টোবর মাসে উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই সময় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বদলে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের কলকাতার কার্নিভালে ব্যস্ত থাকার তীব্র সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, গতবার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা রেড রোডে উৎসবে মগ্ন ছিলেন, যার ফলে পাহাড়ে পৌঁছাতে ৪৮ ঘণ্টা দেরি হয়েছিল। এই ধরনের অমানবিক অবহেলা যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও ত্রাণ সহায়তা
পাহাড়ের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে চাঙ্গা করতে মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় বিধায়কদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের একটি তালিকা তৈরি করে জেলাশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরহারা প্রায় ৯০টি পরিবারের জন্য মাথা পিছু ৩ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি কালিম্পঙে একটি নতুন মেডিকেল কলেজ তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে, যা পাহাড়ের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামনের দিনগুলো ও আগাম সতর্কতা
প্রশাসনিক এই পদক্ষেপে পাহাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে সুরক্ষার আশ্বাস বেড়েছে। স্থানীয় বিধায়কদের সক্রিয় ভূমিকা এবং ত্রাণ বিতরণের দ্রুত প্রক্রিয়া দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বড় ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী বর্ষার মরশুমে প্রশাসন কতটা দ্রুত সাড়া দিতে পারে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় কতখানি কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সরকারি পরিকাঠামো ও আধুনিক সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার পাহাড়ের জীবনযাত্রাকে আগামী দিনে কতটা সুরক্ষিত রাখতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতির মোড়।