Headlines

বলিউড অভিনেত্রী সাহানা গোস্বামীর ‘ওপেন রিলেশনশিপ’ নিয়ে সাহসী মন্তব্য

বলিউড অভিনেত্রী সাহানা গোস্বামীর 'ওপেন রিলেশনশিপ' নিয়ে সাহসী মন্তব্য Photo by Pixabay on Pexels

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাহানা গোস্বামী সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তিনি কোনো প্রথাগত বা একক সম্পর্কে নেই, বরং ‘ওপেন রিলেশনশিপ’ বা উন্মুক্ত সম্পর্কে বিশ্বাসী। সম্পর্কের এই আধুনিক সংজ্ঞাকে তিনি ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের এক মুক্ত পরিসর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা ও সাহানার দৃষ্টিভঙ্গি

সাহানা গোস্বামীর মতে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ছক বা নিয়মের বেড়াজাল থাকা জরুরি নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের মনে অফুরন্ত প্রেম থাকে, যা কেবল একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাঁর কাছে উন্মুক্ত সম্পর্কের অর্থ হলো দীর্ঘস্থায়ী অনুভূতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং স্বচ্ছ যোগাযোগ, যা বন্ধুত্বের ঊর্ধ্বে অনেক সময় শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

স্বচ্ছতা ও মানসিক পরিপক্কতার গুরুত্ব

উন্মুক্ত সম্পর্কে বিশ্বাসী হলেও, সাহানা একে ‘ক্যাজুয়াল’ বা হালকা সম্পর্ক বলতে রাজি নন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সব সঙ্গীরাই একে অপরের সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন, ফলে সম্পর্কের মধ্যে কোনো গোপনীয়তা থাকে না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই ধরনের জীবনধারা সবার জন্য সহজ নয়। বিশেষ করে ঈর্ষা এবং আবেগের দ্বন্দ্ব সামলানো এই সম্পর্কের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

অতীতের সম্পর্ক ও মিলিন্দ সোমন

আলোচনার এক পর্যায়ে সাহানা তাঁর এবং মিলিন্দ সোমনের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তাদের সম্পর্কটি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠলেও ২০১৩ সালে তা শেষ হয়ে যায়। সাহানার মতে, যখন দু’জনের চাওয়া-পাওয়া এবং জীবনের লক্ষ্য আলাদা হয়ে যায়, তখন জোর করে সম্পর্ক টিকিয়ে না রেখে বেরিয়ে আসাটাই শ্রেয়।

সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা

ভারতীয় সমাজে ‘ওপেন রিলেশনশিপ’ বিষয়টি এখনো অনেকের কাছে বিতর্কিত বা অগ্রহণযোগ্য। মনোবিদদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চাহিদা বাড়ার ফলে সম্পর্কের সংজ্ঞায় এমন পরিবর্তন আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে এই ধরনের সম্পর্কের স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করে সঙ্গীদের মধ্যে থাকা স্বচ্ছতা এবং একে অপরের প্রতি সম্মানের ওপর।

ভবিষ্যতে সম্পর্কের এই ধারা আরও জনপ্রিয় হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সাহানার মতো তারকারা এই বিষয়ে কথা বলায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্কের গণ্ডি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে প্রথাগত বিয়ের বাইরে সম্পর্কের এই বৈচিত্র্যময় রূপগুলো আরও কতখানি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *