Headlines

বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুম ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, পুলিশি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি

স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংঘাত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে রাজ্যের বিভিন্ন স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। সর্বশেষ ঘটনায় বিধাননগর কলেজের বাইরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে ঘটা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক শিবিরের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

বিধাননগর কলেজে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ইভিএম ও ভোট পরবর্তী নথিপত্র কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রার্থীরা ও তাঁদের সমর্থকরা স্ট্রংরুমের বাইরে ক্যাম্প করে নজরদারি চালিয়ে থাকেন। এই ক্যাম্প স্থাপনকে কেন্দ্র করেই মূলত দুই দলের মধ্যে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি

বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা আইনত অনুমতি নিয়ে ফুটপাতে ক্যাম্প তৈরি করেছিল, কিন্তু তৃণমূল কর্মীরা সেখানে এসে জোরপূর্বক নিজেদের পতাকা লাগিয়ে দেয় এবং পাল্টা ক্যাম্প স্থাপন করে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে যে, এত বছর ভোট প্রক্রিয়ায় এমন ঘটনা ঘটেনি এবং তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে ক্যাম্প করার। রাজারহাট নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পীযুশ কানোরিয়া এবং তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তা বাহিনীকে।

নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে শুধুমাত্র বিধাননগর নয়, রাজ্যের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও অভিযোগ আসছে। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালট বক্স নিয়ে বিতর্ক এবং বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ ভোট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, স্ট্রংরুমের সুরক্ষায় গাফিলতি রয়েছে, তবে শাসকদল এই অভিযোগগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে।

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

এই ধরণের ঘটনা আসন্ন ভোট গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন প্রতিটি স্ট্রংরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারির কথা বললেও, রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এই ধরণের মুখোমুখি অবস্থান প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আগামী দিনে ভোট গণনার দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর না করলে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *