কলকাতা: বিধানসভায় জমা দেওয়া চিঠিতে সই জাল হওয়ার অভিযোগের তদন্তে এবার হাতের লেখা নমুনা সংগ্রহের পথে CID। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায় সহ আরও দুই বিধায়ককে ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করে তা বিধানসভায় জমা দেওয়া চিঠির স্বাক্ষরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এই ঘটনায় বিধানসভার অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তৃণমূলের পরিষদীয় দলের একটি প্রস্তাবে কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় বিধানসভার পক্ষ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তভার গ্রহণ করে CID। সূত্রের খবর, এই তদন্তের অংশ হিসেবেই বিধায়কদের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন পড়েছে। এই অভিযোগের জেরে ইতিমধ্যে দুই তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাহারুল ইসলামের বাড়িতেও পৌঁছেছিলেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের প্রেক্ষাপট
ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূলের পরিষদীয় দলের একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার একটি প্রস্তাব তৃণমূল পরিষদীয় দল বিধানসভায় জমা দেয়। সেই প্রস্তাবে দলের একাধিক বিধায়কের সই ছিল। কিন্তু বিধানসভার আধিকারিকরা কয়েকটি সইয়ের সত্যতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। তাদের সন্দেহ হয় যে কিছু সই জাল করা হয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে আসার পরেই বিধানসভার সচিব হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে CID তদন্ত শুরু করে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে CID আধিকারিকরা অভিযুক্ত বিধায়কদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন।
বিধায়কদের বক্তব্য
তদন্তের বিষয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ৬ তারিখ একটি দলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছিল যেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘৪ তারিখ থেকে এতবার ব্লক লেটারে লিখে তারপর সই করতে গেছি, সইয়ের জায়গা ছিল না। বললাম শেষ হয়ে গেল, সইয়ের তো জায়গা নেই। তো বলল ঠিক আছে।’ নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, CID আসার পর তিনি জানিয়েছেন যে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং এটি তাঁরই হাতের লেখা। তবে জায়গা না থাকায় তিনি সই করতে পারেননি। এরপর তাঁর প্যান কার্ড চেয়ে সেটির জেরক্স করে আবার সই করানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলাম এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যে সইয়ের নমুনা তাঁকে দেখানো হয়েছে, সেটি তাঁর নয়। অর্থাৎ, তিনি ওই সই করেননি। এই বক্তব্য তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ
CID-র তদন্তের অংশ হিসেবে এবার বিধায়কদের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এই জন্য ব্যাঙ্কশাল আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল এবং আদালত সেই আবেদনে সায় দিয়েছে। এর ফলে তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায় সহ আরও দুই বিধায়ককে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের হাতের লেখার নমুনা দিতে হবে। এই নমুনাগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিধানসভায় জমা দেওয়া চিঠির সইগুলির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় সই জাল করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এই তদন্তের ফলাফল কী হয়, তা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যৎ展望
হাতের লেখা যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে কারা সই জাল করেছে বা কার সই জাল করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। যদি প্রমাণিত হয় যে সই জাল করা হয়েছে, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনা বিধানসভার অন্দরে নিরাপত্তা এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।