Headlines

ভাইফোঁটা বিতর্কে অপরাজিতা আঢ্য: সৌজন্য না রাজনীতি?

ভাইফোঁটা বিতর্কে অপরাজিতা আঢ্য: সৌজন্য না রাজনীতি? Photo by BIRENDRA SHRESTHA on Pexels

কলকাতা: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যর ভাইফোঁটা দেওয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছে। এই ছবিগুলি ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক ট্রোলিং। রাজ্যের পালাবদলের পর, অতীতের সেই ছবিগুলি নতুন করে সামনে আসায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন একজন অভিনেত্রী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ভাইফোঁটা দিচ্ছেন। এই বিতর্ক প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন অপরাজিতা আঢ্য।

ভাইফোঁটা বিতর্ক এবং অপরাজিতার জবাব

সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরাজিতা আঢ্য স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি শুধুমাত্র সৌজন্য রক্ষা করতেই এই ধরনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতেন। কোনোদিন তিনি রাজনৈতিক প্রচার বা দলের সঙ্গে যুক্ত হতে চাননি। তিনি দাবি করেছেন, ক্ষমতাশালী বা বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান জানিয়েই তিনি আমন্ত্রণ রক্ষা করতেন।

অভিনেত্রীর কথায়, রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব পেলেও তিনি বরাবরই নিজের অভিনয় জগতকেই বেছে নিয়েছেন। তিনি সবসময় নিজের কাজ এবং অভিনয়ের প্রতি মনোনিবেশ করতে চেয়েছেন।

প্রতিবাদের ভিন্ন পদ্ধতি

অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই অপরাজিতা প্রতিবাদ করছেন। অভিনেত্রী এর উত্তরে জানিয়েছেন, তিনি যে প্রতিবাদ করেছেন, তার প্রমাণ তাঁর সহকর্মীরা দিতে পারবেন। তিনি টলিউডের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা ‘ব্যান কালচার’-এর কথা উল্লেখ করেছেন।

অপরাজিতা জানান, দেব তাঁর আসন্ন ছবি ‘দশম অবতার’-এ অভিনয়ের জন্য তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন। ছবিতে অনির্বাণ ভট্টাচার্যও থাকছেন। অনির্বাণের সঙ্গে কাজ করার ‘অপরাধে’ দেবকেও ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে, এমন ইঙ্গিতও তিনি পান। জেনেও তিনি এই ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন। সুদেষ্ণা রায়ের সঙ্গে কাজ করতেও তিনি পিছপা হননি। অপরাজিতার মতে, ডিম ছোড়ার মতো বাহ্যিক প্রতিবাদ নয়, বরং কাজের মাধ্যমে প্রতিবাদ করাতেই তিনি বিশ্বাসী।

শিল্পীর দায়বদ্ধতা ও রাজনীতি

শিল্পীদের প্রায়শই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়, বিশেষ করে যখন সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এটি তাঁদের পেশাগত জীবনের একটি অংশ। তবে, এই ধরনের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি অনেক সময় সাধারণ মানুষের দ্বারা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করা হতে পারে।

অপরাজিতার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তিনি সবসময়ই তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, সৌজন্যমূলক আচরণ এবং ব্যক্তিগত মতামত এক নয়।

ভবিষ্যৎ কোনদিকে?

এই ঘটনাটি আবারও সামনে এনেছে যে, বিনোদন জগতের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক কতটা জটিল। শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবনে এবং পেশাগত ক্ষেত্রে এই ধরনের বিতর্ক নতুন নয়। আগামী দিনে অপরাজিতা আঢ্য তাঁর কাজের মাধ্যমে কীভাবে এই বিতর্কের জবাব দেন, এবং টলিউডের ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে তাঁর অবস্থান কতটা দৃঢ় থাকে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *