দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে নির্বাচনী প্রচারের কাজ শেষ করে ফেরার পথে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সওকত মোল্লার কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ভাঙড় বরাবরই রাজ্যের রাজনীতির মানচিত্রে একটি স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিগত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা প্রায়শই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
হামলার বিবরণ ও পরিস্থিতি
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সওকত মোল্লা একটি দলীয় সভা থেকে ফেরার সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয় এবং প্রার্থীকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করা হয়। যদিও এই ঘটনায় সওকত মোল্লা অক্ষত আছেন বলে জানা গেছে, তবে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের ধস্তাধস্তির খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার পরপরই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করেন এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয় এবং এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের সহিংসতা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী দলগুলো এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে তৃণমূলের ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দল’ বলে অভিহিত করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও আগামী পদক্ষেপ
এই ঘটনার জেরে ভাঙড়ের নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করতে পারে বলে সূত্রের খবর। আগামী দিনে প্রচারের সময় প্রার্থীরা কতটা নিরাপত্তা পাবেন এবং এলাকায় শান্তি বজায় থাকবে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের দিন পর্যন্ত ভাঙড়ের প্রতিটি প্রান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে পুলিশের উচ্চপদস্থ সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য।