পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন ভোটগণনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভোটগণনার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সোমবার রাজ্যজুড়ে ২৯৪টি আসনের ফলাফল ঘোষণা হতে চলেছে, যার আগে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পারদ তুঙ্গে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের সূত্রপাত
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কারচুপি এবং সরকারি যন্ত্রের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিলীপ ঘোষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পরাজয়ের সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরে তৃণমূল কংগ্রেস ভোটগণনার দিন রাজ্যে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
দিলীপ ঘোষ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, পরাজয় মেনে নেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে কঠিন। তিনি দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো আচরণ করে তৃণমূল গণনার দিন অশান্তি ছড়াতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, হার নিশ্চিত জেনে তৃণমূল নেতৃত্ব ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছে।
এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য মূলত বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আড়াল করার একটি চেষ্টা। কুণাল ঘোষের মতে, বিজেপি নেতারা নিজের দলের দলবদলু নেতাদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন কাল্পনিক অভিযোগ আনছেন।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি
ইভিএম বিকৃতি ও কারচুপির অভিযোগে রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে উভয় রাজনৈতিক দলই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিয়মিত অভিযোগ জানিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে সজাগ থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ কাটছে না।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও পর্যবেক্ষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটগণনার দিন রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের এজেন্টদের ইভিএম এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর এই পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়। ভোটগণনার দিন কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। সোমবারের ফলাফলের পরই পরিষ্কার হবে রাজ্যের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ এবং জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন।