Headlines

ভোটগণনা ঘিরে তুঙ্গে তৎপরতা, এজেন্টদের বিশেষ নির্দেশ তৃণমূল নেতৃত্বের

ভোটগণনা ঘিরে তুঙ্গে তৎপরতা, এজেন্টদের বিশেষ নির্দেশ তৃণমূল নেতৃত্বের Photo by CP Khanal on Pexels

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার প্রাক্কালে কালীঘাটে দলের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার আয়োজিত এই বৈঠকে দলের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও কারিগরি দিকগুলো নিয়ে এজেন্টদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এবারের নির্বাচনে দলটি ২১০-এর অধিক আসনে জয়ী হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে।

গণনা প্রক্রিয়ায় বিশেষ সতর্কতা

ভোটগণনার দিন গণনাকেন্দ্রে ভোরবেলা উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জয়ী হওয়ার সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই গণনাকেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না। এজেন্টদের সামনের সারিতে বসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে গণনার প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।

ইভিএম (EVM) মেশিন নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন অভিষেক। তিনি কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, ইভিএম খোলার সময় তারিখ এবং সিল পরীক্ষা করার পাশাপাশি ব্যাটারির চার্জের দিকে নজর রাখতে। বিশেষ করে, কোনো মেশিনে যদি ৭০ শতাংশ চার্জ দেখা যায়, তবে তা সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পোস্টাল ব্যালট ও পুনর্গণনার দাবি

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পোস্টাল ব্যালট গণনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। জয়ের ব্যবধান যেখানে সামান্য থাকবে, সেখানে পুনরায় গণনার আবেদন জানাতেও কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোথাও কোনো বাধার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে দলকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন।

বুথফেরত সমীক্ষা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

দলের কর্মী ও সমর্থকদের মনোবল অটুট রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুথফেরত সমীক্ষাকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, শেয়ার বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ এবং জনমতকে প্রভাবিত করতেই বুথফেরত সমীক্ষা করা হয়। অতীতের নির্বাচনগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তব ফলাফলের সঙ্গে মেলে না।

তৃণমূল নেত্রী আরও জানিয়েছেন, যদি কোনো কেন্দ্রে বিজেপি ২০০-৩০০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকে, তবে সেখানে পুনরায় গণনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার স্বার্থে গণনাকেন্দ্রের বাইরে কোনো খাবার না খেয়ে বাড়ি থেকে খাবার সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এজেন্টদের।

ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ

নির্বাচন কমিশনও এই ভোটগণনা প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত পুলিশ ও গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটগণনার দিন এই কড়া নজরদারি ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনাকেন্দ্রের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় পর্যবেক্ষণ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার এই কৌশল তৃণমূলের জয়ের ধারাকে কতটা সুরক্ষিত রাখবে, তা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *