পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার প্রাক্কালে দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের সতর্ক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কালীঘাটে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, গণনাকেন্দ্রে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে এজেন্টদের উপস্থিত থাকতে হবে এবং ইভিএম (EVM) থেকে শুরু করে পোস্টাল ব্যালট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কড়া নজরদারি চালাতে হবে। এই নির্বাচনের ফলাফল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে দল ২০০-র বেশি আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
গণনা প্রক্রিয়ায় বিশেষ সতর্কতা ও কৌশল
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এজেন্টদের নির্দেশ দিয়েছেন, ইভিএম খোলার সময় তারিখ এবং মেশিনের ব্যাটারি চার্জের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে। তাঁর মতে, কোনো মেশিনে ৭০ শতাংশ চার্জ থাকা মানে সেটি নতুন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে সন্দেহ থাকলে তৎক্ষণাৎ ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি জানাতে হবে। এছাড়া, জয়ের ব্যবধান কম থাকলে পুনরায় গণনার জন্য আবেদন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়ই নির্দেশ দিয়েছেন, চূড়ান্ত ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই গণনাকেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না। এজেন্টদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার স্বার্থে বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার এবং বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হলে, বিষয়টি দ্রুত দলকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে যাতে সময়মতো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ব্যবস্থা নিতে পারে।
বুথফেরত সমীক্ষা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের বুথফেরত সমীক্ষার (Exit Polls) ওপর নির্ভর না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, শেয়ার বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ বা জনমত প্রভাবিত করার জন্য অনেক সময় এ ধরনের সমীক্ষা করা হয়, যা অতীতে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের মতো এবারও বুথফেরত সমীক্ষার চেয়ে বাস্তব ফলাফল ভিন্ন হবে এবং তৃণমূল ২১০-এর বেশি আসনে জয়ী হবে।
শিল্প ও ভোটারদের ওপর প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের কড়া নির্দেশ ভোটগণনার দিনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি কৌশল। নির্বাচন কমিশনও ভোটগণনা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত পুলিশ ও গণনাকারী পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। ভোটার এবং রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ভোটগণনা কেন্দ্রের দিকে, যেখানে প্রতিটি ভোট এবং ইভিএম-এর অখণ্ডতা নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। আসন্ন সময়ে ভোটগণনার এই প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে রাজ্যের আগামী পাঁচ বছরের রাজনৈতিক গতিপথ।