ভোট গণনার কৌশল ও রাজীব কুমারের ভূমিকা
আগামী ৪ মে, সোমবার অনুষ্ঠিত হতে চলা ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। এই প্রক্রিয়ায় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ব্যারাকপুর ও দমদম লোকসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রাক্তন ডিজিপি ও রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে তৃণমূলের এই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
গণনার দিন তৃণমূলের সাংগঠনিক বিন্যাস
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার দলের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। এই বৈঠকে প্রতিটি জেলার জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাজীব কুমার ছাড়াও ব্যারাকপুর ও দমদম অঞ্চলে সৌগত রায় এবং পার্থ ভৌমিককে বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন
রাজ্যজুড়ে গণনার দিন নজরদারি বজায় রাখতে তৃণমূল নেতৃত্বের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। হাওড়ায় পুলক রায়, হুগলিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উত্তর কলকাতার দায়িত্বে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষকে নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কলকাতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিমকে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার সার্বিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব রেখেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।
নেতৃত্বের নির্দেশিকা ও সতর্কতা
ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় এজেন্টদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের ভোর ৫টার মধ্যে পৌঁছাতে হবে এবং বাইরের খাবার গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ইভিএম হ্যাকিং বা গণনায় ধীরগতির মতো সম্ভাব্য কারচুপির আশঙ্কায় এজেন্টদের পুনর্গণনার দাবি জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ
তৃণমূল নেতৃত্বের আশঙ্কা, গণনাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ডেটা অপারেটরদের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। নেত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গণনাকেন্দ্রে ১০ সেকেন্ডের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও যেন দ্রুত দলীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়। ২০০-র বেশি আসনে জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দল তৃণমূল কর্মীদের গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ
ভোট গণনার এই জটিল প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয় ঘটিয়ে তৃণমূল যে কৌশল গ্রহণ করেছে, তা আগামী দিনে নির্বাচনী ফলাফলের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে সেটাই এখন দেখার বিষয়। গণনাকেন্দ্রের প্রতিটি খুঁটিনাটি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির মাঝে রাজ্য নেতৃত্বের এই নজরদারি কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।