Headlines

মমতার পরাজয় ও জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের পুনরুত্থান: এক নতুন সমীকরণ

মমতার পরাজয় ও জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের পুনরুত্থান: এক নতুন সমীকরণ Photo by Tara Winstead on Pexels

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ফলে কেবল রাজ্য রাজনীতি নয়, জাতীয় রাজনীতির সমীকরণও আমূল বদলে গেল। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনী ফলাফল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের মুখ হয়ে ওঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-র প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসের অবস্থান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষা

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতিতে নিজেকে বিজেপি-র প্রধান বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন। I.N.D.I.A জোট গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি মল্লিকার্জুন খড়গে বা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো নেতাদের সাথে নিয়ে নিজস্ব প্রভাব তৈরির কৌশল নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই তিনি বিরোধী শিবিরের ‘যোগ্য মুখ’ হওয়ার লড়াইয়ে নিজেকে শামিল করেছিলেন।

জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনেই কেরলে পিনারাই বিজয়নের সিপিএম সরকারকে সরিয়ে কংগ্রেসের জয়লাভ জাতীয় রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন এনেছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-র পরাজয় এবং আম আদমি পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকট কংগ্রেসকে এককভাবে বিরোধী শিবিরের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতেও বিজেপি-র মোকাবিলায় কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনো দলের তেমন শক্তিশালী উপস্থিতি নেই।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি ও তথ্য

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে কংগ্রেসের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূলের মাটি কামড়ে পড়ে থাকার ব্যর্থতা সেই দাবিকে দুর্বল করে দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন কংগ্রেসই একমাত্র দল যারা জাতীয় স্তরে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি জয়ের স্বপ্ন আপাতত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বনাম কংগ্রেসের যে দ্বিমুখী লড়াই স্পষ্ট হতে চলেছে, তাতে তৃণমূলের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিরোধী জোটের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা শুরু হয় কি না, অথবা কংগ্রেস এককভাবে বিজেপি-র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজের অবস্থান কতটা দৃঢ় করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *