দিল্লি থেকে সান ফ্রান্সিসকোর উদ্দেশে রওনা দেওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে বুধবার দিল্লিতে জরুরি ভিত্তিতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। প্রায় ২৩০ জন যাত্রী নিয়ে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর বিমানটি আট ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে কাটানোর পর চিনের আকাশসীমা থেকে পুনরায় দিল্লির অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত
এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭৩ ফ্লাইটটি দিল্লি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর দীর্ঘ সময় গন্তব্যের দিকে এগিয়েছিল। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি চিনের আকাশসীমা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু মাঝপথে যান্ত্রিক গোলযোগ ধরা পড়ায় পাইলট নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি ঘুরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিমান সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে। যাত্রীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং তাদের বিমান থেকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং যাত্রীদের হোটেলে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
গত কয়েক সপ্তাহে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের কারিগরি ত্রুটির ঘটনা বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে এসেছে। গত ২১ মে বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লিগামী একটি বিমানের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল, যদিও সেই বিমানটিও শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছিল।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে এমন যান্ত্রিক ত্রুটি যাত্রী নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। বিমান রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
শিল্পের ওপর প্রভাব
বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের পরিষেবার পরিধি পুনর্গঠন করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ২২ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক রুটে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কাটছাঁট করেছে। বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪৪০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে, যার মধ্যে ৩৬০০টি অভ্যন্তরীণ এবং ৮০০টি আন্তর্জাতিক রুট।
এ ধরনের একের পর এক কারিগরি জটিলতা এয়ার ইন্ডিয়ার ব্র্যান্ড ইমেজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং পরিষেবা উন্নত করতে রক্ষণাবেক্ষণ প্রোটোকলে কঠোর নজরদারি বাড়ানোই হবে সংস্থাটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA) এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে কী ধরনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তা দেখার অপেক্ষায় বিমান ভ্রমণকারীরা।