Headlines

‘মারাদোনা উপরে বসে হাসছেন’, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবেগঘন বার্তা মেসির

বুয়েনস আয়ার্স: ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে লিয়োনেল মেসির আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আবেগে ভেসে গেলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে তিনি জানালেন, এই ঐতিহাসিক জয় তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনাকে।

ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “আমি জানি, মারাদোনা উপরে বসে হাসছেন। এই জয় আমরা ওঁকেই উৎসর্গ করছি। তিনি সবসময় আর্জেন্টিনার সঙ্গে আছেন।”

মেসির এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে মারাদোনা শুধুমাত্র একজন ফুটবলার নন, তিনি আবেগ, ইতিহাস এবং জাতীয় গর্বের প্রতীক। ফলে মেসির এই বার্তা কোটি কোটি সমর্থকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। যদিও ইংল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে, শেষ পর্যন্ত মেসিদের দৃঢ় রক্ষণ এবং কার্যকর আক্রমণের সামনে হার মানতে হয় থ্রি লায়ন্সদের।

এই জয়ের ফলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দুরন্ত ছন্দে রয়েছে দলটি এবং অধিনায়ক হিসেবে মেসিও নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

মারাদোনা-মেসি: এক আবেগের নাম

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে দিয়েগো মারাদোনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং অবিশ্বাস্য একক প্রচেষ্টায় করা গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

২০২০ সালে মারাদোনার প্রয়াণের পর থেকে একাধিকবার তাঁকে স্মরণ করেছেন মেসি। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পরও মেসি বলেছিলেন, মারাদোনা কোথাও না কোথাও থেকে দলকে আশীর্বাদ করছেন।

এবারও ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মারাদোনার নাম উচ্চারণ করে কার্যত সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে আরও একবার সামনে নিয়ে এলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

সমর্থকদের আবেগ

মেসির মন্তব্যের পর আর্জেন্টিনা জুড়ে শুরু হয়েছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। সামাজিক মাধ্যমে বহু সমর্থক লিখেছেন, “মারাদোনা এবং মেসি— এরা দু’জনেই আর্জেন্টিনার গর্ব।”

বুয়েনস আয়ার্সের রাস্তায় হাজার হাজার সমর্থক উদযাপনে সামিল হয়েছেন। অনেককেই মারাদোনার ছবি এবং জার্সি হাতে দেখা গিয়েছে। সমর্থকদের মতে, মারাদোনার স্বপ্নকেই এগিয়ে নিয়ে চলেছেন মেসি।

ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি

এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে শক্তিশালী স্পেন। অন্য সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্প্যানিশরা।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচ হতে চলেছে দুই ফুটবল শক্তির মহারণ। একদিকে মেসির অভিজ্ঞতা ও আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ ও গতিময় ফুটবল।

তবে ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাসের পারদ তুঙ্গে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় এবং মেসির নেতৃত্ব দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

মেসির সামনে আরও এক ইতিহাস

যদি আর্জেন্টিনা এবারও বিশ্বকাপ জিততে পারে, তাহলে লিয়োনেল মেসির কেরিয়ারে আরও একটি সোনালি অধ্যায় যুক্ত হবে। অনেকের মতে, এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নিজের স্থানকে আরও অমর করে তুলবেন।

অন্যদিকে সমর্থকদের আশা, মারাদোনার স্মৃতিকে সঙ্গী করেই আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন মেসি।

এখন গোটা ফুটবল বিশ্বের নজর ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালের দিকে। মেসির আর্জেন্টিনা কি পারবে আবারও বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়তে? সেই উত্তর মিলবে আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই।


Disclaimer:
এই প্রতিবেদনটি ম্যাচ-পরবর্তী বিভিন্ন সংবাদসূত্রে প্রকাশিত তথ্য এবং প্রকাশ্য মন্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। লিয়োনেল মেসির মন্তব্যের অনুবাদ ও উপস্থাপনা উপলব্ধ প্রতিবেদনের উপর নির্ভরশীল। www.srknationbangla.in পাঠকদের সর্বশেষ সরকারি সাক্ষাৎকার, ফিফার প্রকাশিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র যাচাই করার পরামর্শ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *