নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ শাসক মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা তেহরান সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের সাক্ষাতের সম্ভাবনা একেবারেই নেই এবং শান্তিচুক্তিতে বারবার ট্রাম্প নিজেই বাধা সৃষ্টি করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলায় ইরানের তদানীন্তন সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। এরপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প সুর নরম করে বর্তমান সর্বোচ্চ শাসক মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই সাক্ষাতের প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি ওঁর সঙ্গে দেখা করতে পারলে সম্মানিত বোধ করব। দেখতে চাই আমরা চুক্তিবদ্ধ হতে পারি কি না। ওর সঙ্গে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি ওঁর সঙ্গে দেখা করতে রাজি।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, মোজতবা শান্তিচুক্তিতে যুক্ত এবং ইরান তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে। তবে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে “অবাস্তব ভাবনা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমি একটি রিপোর্ট দেখলাম, যাতে ট্রাম্প বলেছেন তিনি সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত এবং মুখোমুখি বৈঠক করতে চান। আমার মনে হয় বাস্তববাদী হওয়া উচিত ওঁর। বাস্তবের মাটিতে পা থাকা উচিত।”
আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনেই ইরানের শাসনভার গ্রহণ করলেও, তিনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি। কোনো ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেননি। প্রাথমিকভাবে তিনি বেঁচে আছেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দেয়। পরে আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, হামলায় আহত হলেও মোজতবা বেঁচে আছেন, তবে তাঁর মুখ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে এবং অঙ্গহানি ঘটেছে। এ বিষয়ে ইরান এখনও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
মার্কিন-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক প্রত্যাখ্যান দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের পক্ষ থেকে একটি দৃঢ় অবস্থান নির্দেশ করে।
এই অচলাবস্থা হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।