সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস তৈরির নেশা প্রাণ কেড়ে নিল উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগরের এক কিশোরের। শনিবার বিকেলে কাশীরাম আবাস কলোনির ৬০ ফুট উঁচু একটি জলের ট্যাঙ্কে উঠে রিলস শুট করার সময় সিঁড়ি ভেঙে নিচে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের। এই ঘটনায় আরও দুই কিশোর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং বাকি দুজনকে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর বায়ুসেনার হেলিকপ্টারের সাহায্যে আকাশপথে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
শনিবার দুপুর ৩টে নাগাদ পাঁচ কিশোর মিলে ওই পরিত্যক্ত জলের ট্যাঙ্কের ওপর ওঠে। রিলস তৈরির অদ্ভুত নেশাই তাদের ঠেলে দিয়েছিল মৃত্যুর মুখে। ফেরার পথে ট্যাঙ্কের জীর্ণ সিঁড়িটি আচমকা ভেঙে পড়লে তিন জন নিচে আছড়ে পড়ে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই এক কিশোরের মৃত্যু হয়। বাকি দুই কিশোর কোনোমতে ট্যাঙ্কের ওপরের অংশে আটকে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করে।
উদ্ধারকার্যে জটিলতা ও বায়ুসেনার ভূমিকা
ট্যাঙ্কটি কর্দমাক্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ভারী হাইড্রোলিক ক্রেন পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করা হলেও প্রবল বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হয়। অবশেষে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বায়ুসেনার MI-17 হেলিকপ্টার তলব করা হয়। রবিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে অত্যন্ত দক্ষতায় বায়ুসেনার কর্মীরা ওই দুই কিশোরকে উদ্ধার করে গোরক্ষপুরের বায়ুসেনা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড ও বিপত্তি
মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, অল্পবয়সীদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় তাদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকে বাড়িয়ে দেয়। সিদ্ধার্থনগরের জেলাশাসক শিবশরণাপ্পা এই ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধারকার্যে সহায়তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সতর্কতা
এই ধরণের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে ভার্চুয়াল জগতের জনপ্রিয়তা বাস্তব জীবনের চেয়ে বড় হতে পারে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার জগতের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন এখন ওই এলাকায় কঠোর নজরদারি শুরু করেছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো কিশোর এ ধরনের বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে।