Headlines

পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে তুঙ্গে সতর্কতা, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের চারপাশ ঘিরে কড়া নজরদারি

পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে তুঙ্গে সতর্কতা, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের চারপাশ ঘিরে কড়া নজরদারি Photo by Paula on Pexels

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পরবর্তী সময়ে ইভিএম সুরক্ষার লক্ষ্যে কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে কঠোর করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে আজ সকাল থেকেই এলাকাটি কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কলকাতা পুলিশের যৌথ প্রহরায় ১০ ফুট উঁচু লোহার পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো এলাকা।

নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে স্ট্রংরুম

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধের ফলে ওই স্থানে চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র পরিচয়পত্রধারী প্রার্থী এবং তাদের অনুমোদিত নির্বাচনী এজেন্টদেরই কঠোর তল্লাশির পর ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তার খাতিরে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সাঁজোয়া গাড়ি এবং নিয়মিত টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ব্যক্তিগতভাবে পুরো পরিস্থিতির তদারকি করছেন। স্ট্রংরুমের ভিতরের প্রতিটি মুহূর্তের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরিং ইউনিট।

রাজনৈতিক তৎপরতা ও কমিশনের অবস্থান

গতকালের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর আজ তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজার মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা পুনরায় স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে এলাকায় উপস্থিত হন। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে সমস্ত ব্যালট এবং ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোট পরবর্তী সময়ে ইভিএমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ করে ফলতার মতো বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা পড়ার পর, রাজনৈতিক দলগুলোর নজর এখন স্ট্রংরুমের দিকেই বেশি।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও পর্যবেক্ষকদের অভিমত

স্ট্রংরুমের এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটের ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং নিরাপত্তা বলয় আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত জারি থাকবে।

ভোটগণনার দিন পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্ট্রংরুমের অন্দরে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বা নজরদারি কীভাবে সামলানো হয় এবং কমিশনের পরবর্তী নির্দেশিকা কী আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *