Headlines

অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম ও শিশুদের অটিজম: একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ

অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম ও শিশুদের অটিজম: একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ Photo by Kampus Production on Pexels

ডিজিটাল ডিভাইসের প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, শৈশবে অতিরিক্ত ডিজিটাল স্ক্রিনটাইম কাটানোর সাথে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের (ASD) লক্ষণগুলোর একটি গভীর যোগসূত্র থাকতে পারে। বিশ্বজুড়ে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং টেলিভিশন ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মূলত শহুরে জীবনযাত্রায় বিনোদনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ফলে শিশুদের সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

ডিজিটাল আসক্তির নেপথ্যের প্রেক্ষাপট

গত এক দশকে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে শিশুদের দৈনন্দিন রুটিনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল ডিভাইসের নীল আলো এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল গ্রাফিক্স শিশুদের মস্তিষ্কের ডোপামিন নিঃসরণকে প্রভাবিত করে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী মনোযোগের ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। অটিজমের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত শৈশবেই শনাক্ত করা হয়, তবে অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম অনেক ক্ষেত্রে সেই লক্ষণগুলোকে আরও জটিল করে তুলছে।

স্ক্রিনটাইম কীভাবে শিশুদের প্রভাবিত করছে

অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বহুমুখী প্রভাব ফেলে। যখন একটি শিশু দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে, তখন সে বাস্তব জগতের মানুষের সাথে কথা বলা, চোখের দিকে তাকানো বা সামাজিক সংকেত বোঝার মতো প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলো শেখার সুযোগ হারায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ডিজিটাল ডিভাইসে ব্যয় করে, তাদের মধ্যে ভাষার দক্ষতা অর্জনে বিলম্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার হার অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও তথ্য উপাত্ত

শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে, অটিজম মূলত একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার হলেও পরিবেশগত প্রভাব একে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের মতে, ১৮ মাসের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে ভিডিও চ্যাট ছাড়া অন্য কোনো স্ক্রিনটাইম একেবারেই রাখা উচিত নয়। তাদের মতে, স্ক্রিনটাইম শিশুদের কল্পনাশক্তি এবং সৃজনশীল খেলার সুযোগ কমিয়ে দেয়, যা মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ক গঠনে বাধা সৃষ্টি করে।

অভিভাবকদের জন্য ভবিষ্যৎ করণীয়

বর্তমান শিল্প ও প্রযুক্তি নির্ভর যুগে শিশুদের সম্পূর্ণ ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে রাখা দুরূহ হলেও এর নিয়ন্ত্রণ জরুরি। আগামী দিনে অভিভাবকদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো শিশুদের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন তৈরি করা, যেখানে শারীরিক খেলাধুলা এবং সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুদের ডিজিটাল ডিভাইসের বিকল্প হিসেবে সৃজনশীল কাজ, বই পড়া এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে সরাসরি কথোপকথনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে এই প্রবণতা কোন দিকে মোড় নেয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডিজিটাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কোনো নীতিমালা গ্রহণ করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *