Headlines

পানীয় জল থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করতে সজনে ডাঁটার ব্যবহার: এক নতুন দিগন্ত

পানীয় জল থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করতে সজনে ডাঁটার ব্যবহার: এক নতুন দিগন্ত Photo by Md Mohiul Islam on Pexels

ব্রাজিল এবং যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি এক যুগান্তকারী গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে, সাধারণ সজনে ডাঁটার বীজ পানীয় জল থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করতে সক্ষম। আধুনিক সভ্যতায় যখন জল দূষণ এবং মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন এই প্রাকৃতিক পদ্ধতি এক বৈপ্লবিক সমাধান হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান প্রয়োজনীয়তা

প্রাচীন গ্রিক, রোমান এবং মিশরীয় সভ্যতায় জল পরিশোধনের মাধ্যম হিসেবে সজনে ডাঁটার ব্যবহার প্রচলিত ছিল। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায়, সজনে বীজে থাকা প্রোটিন এবং বিশেষ উপাদানগুলো প্রাকৃতিক ‘কোয়াগুল্যান্ট’ বা জমাটবদ্ধকারী হিসেবে কাজ করে। এই উপাদানগুলো জলের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দূষিত কণাগুলোকে একত্রিত করতে সাহায্য করে, যা পরবর্তীতে ফিল্টার করা সহজ হয়।

মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা

২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৮৩ শতাংশ নলকূপের জলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো আমাদের অজান্তেই খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এর ফলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং প্রজনন ক্ষমতার মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পিভিসি মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমান সময়ে পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণার ফলাফল ও কার্যকারিতা

গবেষক অ্যাড্রিয়ানো গনসালভেস দোস রেইস জানিয়েছেন, সজনে ডাঁটার বীজ জলের পিভিসি মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রায় ৯৮.৫ শতাংশ অপসারণ করতে সক্ষম। এটি একটি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি, যা রাসায়নিক ফিল্টারের বিকল্প হতে পারে। তবে বর্তমানে একটি বীজের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ লিটার জল শোধন করা সম্ভব, যা বড় আকারের জল সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য একটি সীমাবদ্ধতা।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সজনে ডাঁটার এই গুণাবলী জল পরিশোধন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরও উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিকে বৃহৎ পরিসরে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। স্বল্পমূল্যের এই টেকসই সমাধান আগামী দিনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে। এই গবেষণার পরবর্তী ধাপগুলোতে কীভাবে এর কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব বাড়ানো যায়, সেদিকেই নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *