নতুন প্রযুক্তিতে চোখের পরীক্ষা
যুক্তরাজ্যের গবেষকরা সম্প্রতি এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে শুধুমাত্র চোখের রেটিনা পরীক্ষা করে কোনো রোগীর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব। এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘ব্রিটিশ জার্নাল অফ অফথালমোলজি’-তে, যা কার্ডিওভাসকুলার এবং নিউরোলজিক্যাল রোগের প্রাথমিক নিরূপণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
গবেষণার প্রেক্ষাপট ও পদ্ধতি
চিকিৎসাবিজ্ঞানে রেটিনা বা চোখের পর্দার রক্তনালীগুলো শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি সূচক হিসেবে পরিচিত। গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে প্রায় ৪৭ হাজার মানুষের চোখের স্ক্যান বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখেছেন, চোখের রেটিনার গঠন এবং রক্তনালীর বিন্যাসের ছোটখাটো পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা এবং আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।
প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও এআইয়ের ভূমিকা
গবেষণা অনুযায়ী, এই এআই মডেলটি রোগীর হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারে। রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলো মস্তিষ্কের ধমনীর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায়, সেখানে ঘটে যাওয়া সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ জটিলতার ইঙ্গিত দেয়। এই পদ্ধতিটি প্রচলিত রক্ত পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত এবং ব্যথামুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তিটি কেবল জরুরি বিভাগেই নয়, বরং সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রেও বিপ্লব ঘটাতে পারে। লন্ডনের বিখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. পল ফস্টার জানান, রেটিনার স্ক্যানিং কেবল চোখের রোগ নির্ণয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন শরীরের অন্যান্য অঙ্গের স্বাস্থ্যের আয়না হিসেবে কাজ করছে। তবে বর্তমানে এটি গবেষণাধীন পর্যায়ে থাকায় ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের জন্য আরও বিস্তৃত ট্রায়ালের প্রয়োজন রয়েছে।
শিল্প ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রয়োগ শুরু হলে স্বাস্থ্যসেবার খরচ অনেকাংশে কমে আসবে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীকে ভর্তি করার আগেই তার মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলে চিকিৎসকরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এটি মূলত প্রিভেন্টিভ বা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
আগামী দিনগুলোতে এই প্রযুক্তিটি স্মার্টফোনের ক্যামেরার মাধ্যমেও ব্যবহারের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে। যদি এটি সফল হয়, তবে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই তাদের চোখের স্ক্যান করে বড় ধরনের শারীরিক বিপদের আগাম সতর্কতা পেতে সক্ষম হবে। চিকিৎসকরা এখন নজর রাখছেন এই এআই মডেলটি কীভাবে বিভিন্ন জাতি ও বয়সের মানুষের ওপর সমান কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তার ওপর।