পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার সল্টলেকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন। রাজ্যের পুরসভাগুলিতে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি তাকে তলব করেছিল। গত মাসে চারবার সমন পাঠানোর পর অবশেষে মন্ত্রী সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছান, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
তদন্তের প্রেক্ষাপট
রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় কর্মী নিয়োগে বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইডির দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বিধায়কদের নাম উঠে আসে।
এর আগে এই একই মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলাটি মূলত রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতির একটি বড় অংশের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
ইডি দপ্তরে প্রবেশের সময় সুজিত বসু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্টভাবে জানান, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে এসেছেন। মন্ত্রী বলেন, ‘কেন আমাকে তলব করা হয়েছে, তা আমি জানি না। তবে নিয়ম মেনে আমি হাজিরা দিচ্ছি।’
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সুজিত বসুর বয়ান রেকর্ড করা হবে এবং তার কাছে নিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিপত্র চাওয়া হতে পারে। বিশেষ করে পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বিশেষজ্ঞ ও তথ্যের বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইডির এই পদক্ষেপ রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতা প্রমাণ করে যে, এই মামলার শিকড় অনেক গভীরে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পুরসভাগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা উপেক্ষা করে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডি এবং সিবিআইয়ের যৌথ সক্রিয়তা পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও পর্যবেক্ষণের বিষয়
এই জিজ্ঞাসাবাদের পরেই মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ইডি এই তথ্যগুলো আদালতের কাছে পেশ করবে।
আগামী দিনগুলোতে এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এছাড়া, রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রীদের নাম এই তালিকায় যুক্ত হয় কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকারি দপ্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।