রাজনীতির আঙিনায় বড় ধাক্কা
বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টেনে দল ছাড়লেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এবং বাংলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি। দল ত্যাগের পরপরই তিনি শাসকদলের বিরুদ্ধে টিকিট বিক্রির মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগের নেপথ্যে
মনোজ তিওয়ারির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসে এখন মনোনয়ন পাওয়া সম্পূর্ণভাবে অর্থের বিনিময়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। তিনি সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, দলের টিকিট পাওয়ার জন্য তাকে পাঁচ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে রাজি না হওয়ার কারণেই তাকে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
দুর্নীতির গোলকধাঁধায় তৃণমূল
প্রাক্তন এই ক্রিকেটারের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দলের অভ্যন্তরে জমে থাকা দুর্নীতিরই ফল। তিনি দাবি করেছেন যে, অন্তত ৭০ থেকে ৭২ জন প্রার্থীকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে টিকিট দেওয়া হয়েছে। মনোজের ভাষ্যমতে, ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’, অর্থাৎ কর্মের ফল যে অনিবার্য, তা এই নির্বাচনী ফলাফলেই প্রতিফলিত হয়েছে।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার তিক্ততা
রাজনীতিতে আসার কোনো প্রাথমিক আগ্রহ না থাকলেও ২০২১ সালে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি নির্বাচনে লড়াই করেছিলেন। বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় হাওড়ার ড্রেনেজ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। স্থানীয় পুরসভার দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা তাকে হতাশ করেছে বলে জানিয়েছেন মনোজ।
সাংগঠনিক ব্যর্থতার সুর
শুধু মনোজ তিওয়ারি নন, দলের একাংশের নেতাদের ঔদ্ধত্য ও সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে সরব হয়েছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়ের মতো অন্য নেতারাও। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের প্রতি নেতাদের অবজ্ঞা এবং অহংকারই দলের এই ভরাডুবির অন্যতম কারণ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এ ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে কতটা দুর্বল করে দিয়েছে, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যতের পথ
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব কীভাবে এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ সামাল দেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল। একইসঙ্গে, মনোজ তিওয়ারির তোলা এই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো আইনি তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সাধারণ মানুষের। রাজনীতির এই টালমাটাল অবস্থায় দলবদল এবং নতুন সমীকরণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।