যুদ্ধের দুই মাসে মার্কিন অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে মার্কিন অর্থনীতিতে গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধের পেছনে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা দেশটির জাতীয় বাজেটে বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি করেছে। এই বিপুল অর্থব্যয় কেবল মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
যুদ্ধের বিশাল ব্যয় ও তার তুলনামূলক চিত্র
২৫ বিলিয়ন ডলারের এই অংকটি কতটা বিশাল, তা অনুধাবন করতে বিভিন্ন খাতের সাথে তুলনা করা প্রয়োজন। এটি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এক বছরের মোট বাজেটের সমান এবং ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে ওমান বা পানামার মতো দেশের প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষকে টানা দশ বছর খাদ্য সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হতো।
প্রতি মিনিটে খরচের হিসাব
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, আমেরিকার এই যুদ্ধের দৈনিক খরচ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতি মিনিটে প্রায় ১৩ লক্ষ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ১১.৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হওয়ার মূল কারণ ছিল অত্যাধুনিক মিসাইল এবং উচ্চপ্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জামের লাগামহীন ব্যবহার। পেন্টাগনের প্রতিবেদন অনুসারে, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের আকাশছোঁয়া দামই এই বিপুল খরচের প্রধান উৎস।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থ যুদ্ধের বদলে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করলে লক্ষ লক্ষ পরিবারের ভাগ্য বদলে দেওয়া যেত। বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান বা শিশু পরিচর্যা (Childcare) নিশ্চিত করার মতো সামাজিক প্রকল্পগুলোতে এই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ ছিল। অন্যদিকে, যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে গত ৫০ দিনে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও পর্যবেক্ষণের বিষয়
আগামী দিনগুলোতে এই সংঘাতের স্থায়িত্ব এবং এর ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি বিশ্ব অর্থনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। যুদ্ধের তীব্রতা না কমলে মার্কিন সামরিক বাজেটের ওপর চাপ আরও বাড়বে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিশ্বনেতারা এখন এই সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং অর্থনৈতিক সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।