তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট ও গুরুতর অভিযোগ
তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর এবং বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, আরজি কর আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য দলের ভেতরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি ষড়যন্ত্র বা অন্তর্ঘাত চালানো হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তনের ধারা
গত চার বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক চরিত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন কোহিনুর। তাঁর মতে, একসময়ের তৃণমূল স্তরের ঘাসফুল শিবির বর্তমানে একটি ‘কর্পোরেট’ দলে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল ভবনের অবাধ পরিবেশ এখন আর নেই, বরং ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও সমালোচনা
কোহিনুর মজুমদারের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিষেককে ‘প্যারাশুট থেকে নামা নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা এই দলকে তিনি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হতে গেলে নির্দিষ্ট কিছু প্রথা ও আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ কর্মীদের কাছ থেকে দলকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
তোলাবাজি ও ফিল্টারেশন প্রক্রিয়ার অভিযোগ
দলের ভেতরের আর্থিক দুর্নীতির বিষয়েও তিনি সরব হয়েছেন। কোহিনুরের দাবি, তৃণমূলের অন্দরে এখন ‘ফিল্টারেশন প্রসেস’ চলছে, যেখানে ব্লক সভাপতি বা প্রার্থী পদ পাওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হচ্ছে। এই দুর্নীতি তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে এবং দলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
এই ধরণের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও গুরুতর অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, যখন দলের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে, তখন দলের অন্দরের এই মন্তব্য তৃণমূলের ভাবমূর্তিকে আরও সংকটের মুখে ফেলবে।
আগামী দিনে এই বিদ্রোহ দলের ভেতরে আরও বড় কোনো ভাঙন তৈরি করে কি না, বা শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তা এখন দেখার বিষয়। এছাড়া, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে জল্পনা বাড়ছে।