Headlines

বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের ঐতিহাসিক নিলাম: শাহবাজের সর্বোচ্চ দর ও স্বার্থের সংঘাতের বিতর্ক

বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের ঐতিহাসিক নিলাম: শাহবাজের সর্বোচ্চ দর ও স্বার্থের সংঘাতের বিতর্ক Photo by Shlok on Pexels

আইপিএলের আদলে নতুন দিগন্ত

ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি) আয়োজিত বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের তৃতীয় সংস্করণে প্রথমবারের মতো আইপিএলের ধাঁচে খেলোয়াড় নিলাম অনুষ্ঠিত হলো। রবিবার কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এই নিলামে অংশ নেওয়া আটটি দল তাদের পছন্দের ক্রিকেটারদের দলে ভিড়িয়েছে। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, যা বাংলার ঘরোয়া ক্রিকেটে এক নতুন পেশাদার যুগের সূচনা করল।

নিলামের প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতি

এর আগে বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে ক্রিকেটারদের বাছাই করা হতো মূলত ড্রাফটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তবে টুর্নামেন্টের মানোন্নয়ন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পছন্দকে গুরুত্ব দিতে সিএবি এবার নিলামের পথ বেছে নিয়েছে। মোট ৪ কোটি ৮ লক্ষ টাকার বাজেট নিয়ে আটটি দল তাদের স্কোয়াড সাজানোর কাজ সম্পন্ন করেছে। নিলামের জন্য ক্রিকেটারদের পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে এ প্লাস থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নিলামের মূল আকর্ষণ ও সেরা দর

নিলামের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অলরাউন্ডার শাহবাজ আমেদ। তাকে ১২ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় দলে নিয়েছে শ্রাচী ট্রাইবস রাঢ় টাইগার্স। এছাড়া অভিষেক পোড়েল (১০.৪০ লক্ষ টাকা), মুকেশ কুমার (৯.৬০ লক্ষ টাকা) এবং আকাশ দীপের মতো জাতীয় স্তরের ক্রিকেটারদের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বড় অংকের অর্থ ব্যয় করেছে। রাইট টু ম্যাচ (আরটিএম) কার্ডের ব্যবহার করে দলগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ধরে রাখার সুযোগ পেয়েছে।

স্বার্থের সংঘাত ও বিতর্ক

নিলামের সফল আয়োজনের পাশাপাশি একটি বড় বিতর্কও দানা বেঁধেছে। নোভাস পুরুলিয়া রয়্যালস দলের নিলামের টেবিলে সিএবি’র অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, সিএবি-র নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সদস্য হয়ে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির নিলাম টেবিলে থাকা সরাসরি ‘স্বার্থের সংঘাত’ বা কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্টের শামিল। লোঢা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যেখানে ভারতীয় ক্রিকেটে স্বচ্ছতার ওপর জোর দেওয়া হয়, সেখানে এই ঘটনা সিএবি-র অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

শিল্পের ওপর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

এই নিলামের ফলে বাংলার তরুণ ক্রিকেটাররা একটি বড় মঞ্চ পেলেন, যা তাদের আইপিএল বা জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে কোচিং স্টাফদের ভূমিকা এবং স্বার্থের সংঘাত এড়াতে সিএবি-কে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করতে হতে পারে। টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলার ক্রিকেটের বাণিজ্যিক প্রসারে এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলগুলোর প্রস্তুতি এবং বিতর্কিত বিষয়গুলোর সুরাহা কীভাবে হয়, সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেট মহলের। হারবার ডায়মন্ডস শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোর পর আট দল নিয়েই টুর্নামেন্টের সূচি নির্ধারিত হয়েছে। আগামীর দিনগুলোতে এই লিগ থেকে নতুন কোনো প্রতিভা উঠে আসে কি না, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *