কলকাতা: রাজ্যের স্কুল পড়ুয়াদের উপর থেকে বইয়ের ভার এবং হোমওয়ার্কের চাপ কমাতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর এই মর্মে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে, যেখানে স্কুল ব্যাগের ওজন এবং হোমওয়ার্কের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০-র সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই নতুন নীতি অনুযায়ী, কোনও স্কুল পড়ুয়ার নিজের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী হবে না তার স্কুল ব্যাগ। পাশাপাশি, হোমওয়ার্কের পরিমাণও সীমিত করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য কোনও স্কুল ব্যাগ লাগবে না। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়াদের ব্যাগের ওজন সর্বোচ্চ ২ কেজি ২০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ব্যাগের ওজন আড়াই কেজির বেশি হবে না। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে ব্যাগের ওজন ২ থেকে ৩ কেজি এবং অষ্টম শ্রেণীতে আড়াই থেকে ৪ কেজির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। নবম ও দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য ব্যাগের ওজন সাড়ে ৪ কেজি পর্যন্ত এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য ৫ কেজির বেশি হবে না।
হোমওয়ার্কের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়াদের কোনও হোমওয়ার্ক দেওয়া হবে না। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা হোমওয়ার্ক দেওয়া যেতে পারে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিদিন এক ঘণ্টার হোমওয়ার্ক এবং নবম ও দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা হোমওয়ার্ক দেওয়া যাবে।
এই সিদ্ধান্ত পড়ুয়াদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভারী স্কুল ব্যাগ বহন করার ফলে শিশুদের মেরুদণ্ড ও গাঁটে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও অতিরিক্ত হোমওয়ার্কের চাপ তাদের সৃজনশীলতা এবং খেলাধুলার সময় কমিয়ে দেয়। নতুন নীতি এই সমস্যাগুলি সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নীতি শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ অরিন্দম সেন জানান,