নয়াদিল্লিতে গত কয়েক দিনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামক একটি আকস্মিক আন্দোলন থেকে শুরু করে ট্রেডমার্কের আবেদন পর্যন্ত পৌঁছানো ঘটনাপ্রবাহ ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তর একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে জন্ম নেওয়া এই আন্দোলনটি এখন আইনি রূপ নেওয়ার পথে এগোচ্ছে, যেখানে ইতিমধ্য়েই দুটি পৃথক ট্রেডমার্ক আবেদন জমা পড়েছে। বেকারত্ব এবং সিস্টেমের প্রতি ক্ষোভকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এই ভার্চুয়াল দলটির জনপ্রিয়তা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সীমানা ছাড়িয়ে আইনি লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত: সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য ও জনরোষ
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানি চলাকালীন। অভিযোগ ওঠে যে, শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবক-যুবতীদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, অনেকে কোনো কাজ না পেয়ে সাংবাদিকতা বা আরটিআই (RTI) কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও পরবর্তীকালে বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে, তাঁর এই মন্তব্য শুধুমাত্র জাল ডিগ্রি নিয়ে পেশায় যোগদানকারী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে ছিল, কিন্তু ততক্ষণে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এই মন্তব্যের প্রতিবাদে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ নিজেদের ‘আরশোলা’ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে। তারা দাবি করে, তারা এমন এক ‘আরশোলা’ যারা সিস্টেমের ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ভয় পায় না। এই আবেগকেই সংগঠিত রূপ দিতে CockroachJanataParty হ্যাশট্যাগ ব্যবহার শুরু হয়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
ডিজিটাল বিপ্লব: ইনস্টাগ্রামে বিজেপিকেও টেক্কা
আম আদমি পার্টির প্রাক্তন পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দীপকে এই আন্দোলনের পালে হাওয়া দেন। তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ও অ্যাকাউন্ট খোলেন। অভাবনীয়ভাবে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে এই পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যায়। তথ্য বলছে, ফলোয়ার বৃদ্ধির হারের দিক থেকে এটি ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিজেপিকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে।
তবে এই অভাবনীয় সাফল্য বাধার মুখে পড়ে যখন ভারত সরকারের আইনি দাবির প্রেক্ষিতে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে সিজেপি-র হ্যান্ডেলটি সাসপেন্ড করা হয়। অভিজিৎ দীপকে এই পদক্ষেপকে ‘বাকস্বাধীনতার কণ্ঠরোধ’ বলে অভিহিত করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে প্রবেশ করতে গেলে বর্তমানে ব্যবহারকারীরা একটি বার্তা দেখছেন যেখানে বলা হয়েছে, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ভারতে এই অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়েছে।
আইনি লড়াই ও ট্রেডমার্কের দৌড়
আন্দোলনটি কেবল হ্যাশট্যাগ বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সম্প্রতি ভারতের ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘Cockroach Janata Party’ নামে দুটি আলাদা আবেদন জমা পড়েছে। প্রথম আবেদনটি করেছেন আজিম আদমভাই জাম (আবেদন নম্বর ৭৭৩৭৯৩৭) এবং দ্বিতীয়টি জমা দিয়েছেন অখণ্ড স্বরূপ (আবেদন নম্বর ৭৭৪১৪৮১)।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, উভয় আবেদনের বর্তমান স্থিতি বা স্ট্যাটাস দেখাচ্ছে