Headlines

লন্ডনের নটিং হিলে সোনম কপূরের নতুন বিতর্ক: বিলাসিতা নাকি প্রতিবেশীদের মাথাব্যথা?

লন্ডনের নটিং হিলে সোনম কপূরের নতুন বিতর্ক: বিলাসিতা নাকি প্রতিবেশীদের মাথাব্যথা? Photo by Josh Withers on Pexels

বলিউডের রুপোলি পর্দা থেকে বর্তমানে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও, সংবাদ শিরোনামে কীভাবে থাকতে হয় তা সোনম কপূরের বেশ ভালোই জানা। এক সময়ের দাপুটে অভিনেত্রী এবং বলিউডের অন্যতম ‘ফ্যাশনিস্তা’ হিসেবে পরিচিত সোনম এখন ঘর বেঁধেছেন সুদূর লন্ডনে। স্বামী আনন্দ আহুজা এবং দুই পুত্রসন্তানকে নিয়ে তাঁর ভরপুর সংসার। তবে সম্প্রতি এই তারকা দম্পতিকে নিয়ে টেমসের পাড়ে এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং আবাসন সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত লন্ডনের অভিজাত মহলে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে নটিং হিলের মতো এলাকায় তাঁদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রতিবেশীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে বলা চলে।

লন্ডনের রাজকীয় জীবন ও সোনম কপূর

সোনম কপূর এবং আনন্দ আহুজা গত কয়েক বছর ধরেই লন্ডনের স্থায়ী বাসিন্দা। বিয়ের পর থেকেই সোনম তাঁর বেশিরভাগ সময় লন্ডনেই কাটান। সেখানে নটিং হিল নামক একটি অত্যন্ত অভিজাত এলাকায় তাঁদের একটি বিশাল বাংলো রয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় এই বাংলোটির দাম প্রায় ২৭১ কোটি টাকা। এই বাড়িতেই সোনম তাঁর বড় ছেলে বায়ু এবং সদ্যোজাত দ্বিতীয় পুত্রসন্তানকে নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। অভিনয় থেকে বিরতি নিলেও মডেলিং এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রচারের কাজে তিনি এখনও সক্রিয়। তবে এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তাঁর কাজ নয়, বরং তাঁর জীবনযাত্রার মান এবং বাড়ির কর্মচারীদের জন্য নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত।

পরিচারকদের জন্য কোটি টাকার ফ্ল্যাট: বিলাসিতার নতুন সংজ্ঞা

খবর অনুযায়ী, সোনম এবং আনন্দ তাঁদের নটিং হিলের মূল আবাসের ঠিক পাশেই আরও পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। তবে এই ফ্ল্যাটগুলো নিজেদের থাকার জন্য নয়, বরং তাঁদের বাড়ির পরিচারক এবং কর্মীদের জন্য কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পাঁচটি ফ্ল্যাট কিনতে তাঁদের খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ পাউন্ড, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫১ কোটি টাকার সমান। লন্ডনের মতো শহরে যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য একটি ফ্ল্যাট কেনা স্বপ্নের মতো, সেখানে পরিচারকদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে পাঁচটি ফ্ল্যাট কেনা নিশ্চিতভাবেই বিলাসিতার এক নতুন নজির গড়েছে। কিন্তু এই বিলাসিতাই এখন তাঁদের জন্য আপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেশীদের আপত্তি ও আভিজাত্যের লড়াই

নটিং হিল এলাকাটি লন্ডনের অত্যন্ত ধনাঢ্য এবং অভিজাত শ্রেণির মানুষদের বসবাসের জায়গা হিসেবে পরিচিত। সেখানকার বাসিন্দারা সাধারণত নিজেদের গোপনীয়তা এবং এলাকার সামাজিক ভারসাম্য নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। সোনম এবং আনন্দের এই পদক্ষেপে ওই এলাকার বাসিন্দারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁদের মতে, পরিচারকদের জন্য একই এলাকায় এতগুলো বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনায় এলাকার ‘আভিজাত্য’ নষ্ট হতে পারে। প্রতিবেশীদের একাংশ মনে করছেন, এর ফলে ওই এলাকায় একটি শ্রেণীগত পার্থক্য বা ‘ক্লাস ডিস্টিংশন’ তৈরি হবে। অনেকের আশঙ্কা, সোনম এবং আনন্দ হয়তো ওই বিলাসবহুল আবাসনকে পরোক্ষভাবে ‘সোশ্যাল হাউজিং’ বা সামাজিক আবাসনে পরিণত করতে চাইছেন, যা ওই এলাকার প্রথাগত পরিবেশের পরিপন্থী।

বিনিয়োগ নাকি ব্যক্তিগত প্রয়োজন? ধোঁয়াশা বজায়

এই বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন সোনম এবং আনন্দের কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাঁদের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে, এই পাঁচটি ফ্ল্যাট কেনার সঙ্গে আনন্দ আহুজার পারিবারিক বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। এটি মূলত একটি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ হিসেবে কেনা হয়েছে। যদিও এই ব্যাখ্যা প্রতিবেশীদের শান্ত করতে পারেনি। সোনম বা আনন্দ নিজে থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি। তবে তাঁদের নীরবতা এবং বিপুল পরিমাণ অর্থের এই লেনদেন লন্ডনের রিয়েল এস্টেট বাজারে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন তারকা যখন বিদেশের মাটিতে সংসার পাতেন, তখন তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপই আতশকাঁচের নিচে থাকে। সোনম কপূরের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একদিকে যেমন তাঁর এই রাজকীয় জীবনযাপন অনেকের কাছে ঈর্ষণীয়, অন্যদিকে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার চ্যালেঞ্জটিও বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নটিং হিলের মতো জায়গায় যেখানে আভিজাত্যই শেষ কথা, সেখানে এই ধরণের বিতর্ক সোনমের আগামী দিনের সামাজিক অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে মাতৃত্ব এবং সংসারের পাশাপাশি এই ধরণের সামাজিক জটিলতা সামলানো সোনমের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত আভিজাত্যের এই লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *