কলকাতা পুরসভায় ফাইল লোপাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক পুরসভার সচিবের কাছে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। শনিবার বিকেলে তিনি পুরসভায় গিয়ে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব কিশোরকুমার বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করেন এবং ফাইল সরিয়ে ফেলার চেষ্টার বিষয়টি জানান। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
বিজেপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক পুরসভার ট্রেজারি বিল্ডিংয়ের একটি বন্ধ ঘর দেখিয়ে অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘর থেকে ফাইল সরানোর চেষ্টা করছে। তবে, ওই বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার জানিয়েছেন যে, নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী ফাইল না সরানোর জন্য ওই জায়গাটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
পুরসভায় সংঘাতের প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে তীব্র সংঘাত দেখা দিয়েছে। এর আগে, অধিবেশন কক্ষ খোলা বা বন্ধ রাখা নিয়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এমনকি, কিছু ক্ষেত্রে তালা ঝোলানো নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এই সংঘাতের জেরেই এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। মূল অধিবেশন কক্ষ বন্ধ থাকায়, তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা বাইরে একটি ক্লাব রুমে বিকল্প অধিবেশন বসাতে বাধ্য হন। অভিযোগ ওঠে যে, চেয়ারপার্সন মালা রায় পুরসভার সচিবকে চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও কক্ষের চাবি দেওয়া হয়নি। নতুন সচিব দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জানান যে, তিনি এখনও সব বিষয়ে অবগত নন, তাই চাবি দেওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে, মূলত তৃণমূল কাউন্সিলররাই ওই বিকল্প অধিবেশনে যোগ দেন।
বিজেপির অভিযোগ ও পুরসভার প্রতিক্রিয়া
বিজেপির কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠকের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ নথি লোপাট করার চেষ্টা করছে। তিনি পুরসভার সচিবের কাছে এই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ট্রেজারি বিল্ডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট ঘর থেকে ফাইল সরানো হচ্ছিল, যা পুরসভার কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে, পুরসভার কেয়ারটেকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ফাইলগুলি সুরক্ষিত রাখার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নবান্নের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও ফাইল সরানো হচ্ছে না এবং সেই কারণে ওই স্থানটি তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে, বিজেপির অভিযোগ, এই তালাবদ্ধ রাখা ফাইলগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকতে পারে যা শাসকদল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
কলকাতা পুরসভায় ফাইল লোপাটের এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর বিভিন্ন পুরসভায় গণইস্তফার ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে, কলকাতা পুরসভায় ফাইল লোপাটের অভিযোগ শাসকদলের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো করার চেষ্টা করছে।
ভবিষ্যতের দিকে
কলকাতা পুরসভায় ফাইল লোপাটের এই অভিযোগের পর তদন্তের দাবি উঠেছে। এই ঘটনা পুরসভার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নথি সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এনেছে। আগামী দিনে এই অভিযোগের সত্যতা কতটুকু প্রমাণিত হয় এবং এর ফলে পুরসভার রাজনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।