কর্নাটকের কলাবুর্গিতে ১৮ বছর বয়সি এক NEET পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভাগ্যশ্রী পাটিল নামের এই মেধাবী ছাত্রীটি বোর্ডের পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন এবং সম্প্রতি NEET পরীক্ষায় বসেছিলেন। যদিও কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি, তবে মেয়েটির বাবা দাবি করেছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল, যা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভাগ্যশ্রীর মৃতদেহ তার ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। ভাগ্যশ্রীর বাবা রাজশেখর পাটিল সরাসরি NEET পরীক্ষার কথা উল্লেখ না করলেও, তিনি একটি ‘অদৃশ্য চাপের’ কথা বলেছেন যা দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করছে। তিনি মনে করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তার মেয়ের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল।
এই ঘটনাটি NEET পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের উপর এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, তবে এই ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান কাঠামো এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
রাজশেখর পাটিল জানান, তার মেয়ে গত কয়েকদিন ধরে মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি তাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে, থানায় অভিযোগ দায়ের করার সময় তিনি সরাসরি NEET পরীক্ষার উল্লেখ করেননি এবং কাউকে দোষারোপ করতে চাননি। তার এই সংযত প্রতিক্রিয়াও অনেককে ভাবাচ্ছে।
বোর্ডের পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ নম্বর পাওয়া একজন শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক পরিণতি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এটি শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্যাকেই তুলে ধরে না, বরং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার অদক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের উপর যে বিপুল মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তাও স্পষ্ট করে। নেটিজেনরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই প্রথম নয় যখন NEET পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। গত ১৬ মে রাজস্থানেও এক NEET পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিলেন। তার পরিবার দাবি করেছিল যে, তিন বছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার পর এবং ভালো ফল করার আশা থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবরে সে ভেঙে পড়েছিল। ভাগ্যশ্রী পাটিলের মৃত্যুর আগে, NEET-এর সঙ্গে সম্পর্কিত আরও অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর সামনে এসেছে, যা এই সমস্যাটির ভয়াবহতা নির্দেশ করে।
এই ঘটনাগুলি NEET পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং এর সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষা পদ্ধতির উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষা মন্ত্রক এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) এই অভিযোগগুলির তদন্ত করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেদিকেই এখন সকলের নজর থাকবে।